রাজধানীর খিলক্ষেতে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ডাকাতি ও হানিট্র্যাপের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে খিলক্ষেত থানা পুলিশ ।
গ্রেফতারকৃতরা হলো: ১। শাহাপরান (৩০) ২। আফজাল হোসেন (৪০) ৩। হানিফ (৪০) ৪। সাগর হাওলাদার (২৮) ৫। নাসিফ অঙ্কন (২৮) ও ৬। ফরহাদ সোহান (৩৩)
খিলক্ষেত থানা সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোর আনুমানিক ০৩:৪০ ঘটিকার সময় রাজধানীর খিলক্ষেত থানাধীন লেকপাড় সংলগ্ন পাকা রাস্তার উপর সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় শাহাপরান, আফজাল হোসেন ও হানিফকে গ্রেফতার করে খিলক্ষেত থানা পুলিশ। এ সময় গ্রেফতারকৃতদের হেফাজত হতে ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত মিনি ট্রাক ও নয়টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহত একটি প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়।
খিলক্ষেত থানা সূত্রে আরও জানা যায়, ভিকটিম মোঃ জসীম উদ্দিন (৩৮) বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বাস করেন। তার সঙ্গে ফেসবুকে হাফিজা নামের এক তরুণীর পরিচয় হয়। হাফিজা তার মোবাইল দিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ করে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন। গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮:৩০ ঘটিকার দিকে হাফিজা খিলক্ষেত রাজউক মার্কেটের উত্তর পাশের গেটে দেখা করার কথা বলে। ভিকটিম মোঃ জসীম সেখানে অপেক্ষা করলে গ্রেফতারকৃত সাগর, অঙ্কন ও ফরহাদ তাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। হাফিজা রাজউক মার্কেটের ৪র্থ তলার একটি রেস্টুরেন্টে আছে বলে তাকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ভিকটিমের সন্দেহ হলে জসীম যেতে অস্বীকার করলে গ্রেফতারকৃতরা তাকে জোর করে আটক করে মারধর করে রেস্টুরেন্টে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সেখানে তাকে আটকে রেখে মোবাইল ফোন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও নগদ ১ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং আরও টাকা দাবি করে। টাকা না পেয়ে তারা মোবাইল ও লাইসেন্স রেখে দেয় এবং যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল নম্বর দেয়। পরে ২০ হাজার টাকা দিয়ে মোবাইল ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলে। এ ঘটনায় ভিকটিম মোঃ জসিমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে খিলক্ষেত থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু হয়।
মামলা রুজুর পর সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্য বিশ্লেষণ করে গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬:৩০ ঘটিকায় রাজউক মার্কেট সামনে থেকে সাগর হাওলাদার ও নাসিফ অঙ্কনকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই তারিখ রাত আনুমানিক ১০:৩০ ঘটিকায় নিকুঞ্জ-২ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ফরহাদ সোহানকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের হেফাজত থেকে ভিকটিমের ড্রাইভিং লাইসেন্স উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতরা ও পলাতক হাফিজা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা ও ছিনতাই চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা ফেসবুক ও সোশ্যাল মিডিয়ায় মেয়েদের নামে ফেক প্রোফাইল খুলে যুবকদের টার্গেট করতো মর্মে স্বীকার করেছে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।