বাংলাদেশের গণতন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে বন্দী ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা।
বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশ কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডি.সি. সংলগ্ন ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় অংশ নেন তিনি।
তিনি বলেন, “বর্তমানে জনগণের ভোটের মাধ্যমে নিজেদের নেতা নির্বাচনের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা কোনোভাবেই ভয়, ভীতি বা প্রলোভনের কাছে নতি স্বীকার করে হারানো যাবে না।”
‘ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’-তে ইউএস-বাংলাদেশ অ্যাডভোকেসি কাউন্সিল (ইউবিএসি)-এর উদ্যোগে ‘দ্য আপকামিং ইলেকশন ২০২৬ অ্যান্ড দ্য রোল অব সিভিল সোসাইটি’ শিরোনামে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড্যান মজিনা বলেন, “বাংলাদেশ বর্তমানে একটি কঠিন সময় অতিক্রম করছে। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।”
ড্যান মজিনা বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন ২৪ নভেম্বর ২০১১ সালে, দায়িত্ব পালন করেছেন ১২ জানুয়ারি ২০১৫ পর্যন্ত। রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে গিয়ে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি কখনোই হাল ছাড়িনি।”
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী শক্তিগুলোকে কৃতিত্ব দেন এবং বলেন, “এই অভ্যুত্থান না হলে গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন সম্ভব হতো না।” ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে জনগণের পাশে থাকার কথা জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউএস বাংলাদেশ অ্যাডভোকেসি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, লেখক ও সংগঠক সামছুদ্দীন মাহমুদ। সঞ্চালনা করেন মানবাধিকার কর্মী হাসান চৌধুরী।
মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন নিউ জার্সির মনমাউথ ইউনিভার্সিটির ডিন অধ্যাপক গোলাম এম. মাতবর। আরও বক্তব্য দেন ভার্জিনিয়ার স্টেট সিনেটর সাদ্দাম সেলিম, সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মনজুরুল হক, আহমেদ খান সেলাল, নজরুল ইসলাম, আনোয়ার করিম, রফিকুল হক, শামীমা সেলিমুদ্দীন ও স্যাম রিয়া।