পেপার অ্যান্ড প্যাকেজিং প্রোডাক্টসকে বর্ষপণ্য ঘোষণা করে ৩০ তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি ) নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পূর্বাচলের স্থায়ী ভেন্যু বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে এ মেলার উদ্বোধন করেন তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম সংস্করণ দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। বাণিজ্য মেলা নিছক পণ্যের প্রদর্শনী নয়; এটি বাংলাদেশের নতুন নতুন উদ্যোগ, উদ্ভাবন এবং বাণিজ্যিক উন্নয়নের প্রদর্শনী।
বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার উল্লেখ করে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, রফতানি পণ্যের উন্নয়ন, বহুমুখীকরণ, নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ ও বাজার সংযোগ, অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি উন্নয়নে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। মেলা আয়োজনের মাধ্যমে দেশের ব্র্যান্ড ইমেজ শক্তিশালী হয় এবং বহির্বিশ্বে দেশ সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে, যা পণ্যের উৎপাদককে ভোক্তার সঙ্গে, উদ্যোক্তাকে বিনিয়োগকারীর সঙ্গে এবং বাংলাদেশকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করে চলেছে।
তিনি বলেন , এই মেলা বাণিজ্য, শিল্প এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমাদের অগ্রগতিকে প্রতিফলিত করে এবং ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প থেকে আধুনিক প্রযুক্তি-চালিত পণ্য উৎপাদন ও বহুমুখকীকরণে আমাদের সক্ষমতা প্রদর্শন করে থাকে। এলডিসি গ্রাজুয়েশন পরবর্তী সময়ে দেশের রফতানি বাণিজ্যের অগ্রগতি বজায় রাখার লক্ষ্যে পণ্য উন্নয়ন, বৈচিত্রায়ন ও নতুন নতুন বাজার অন্বেষণের উপযুক্ত কৌশল হিসেবে গত ১ থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ভেন্যুতেই একই আয়োজক সংস্থার উদ্যোগে প্রথমবারের মতো গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো ২০২৫ ঢাকা শিরোনামে একটি আন্তর্জাতিক সোর্সিং ফেয়ার এর আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি পর্যটক, দর্শনার্থী ও আমদানিকারকদের কাছে দেশের উৎপাদন ও রফতানি সক্ষমতার বিশেষ পরিচিতির পথ সুগম হয়েছে। বছরে এক বা একাধিকবার এ ধরণের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
উপদেষ্টা বলেন, বাণিজ্য মেলায় উদ্যোক্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদ্যোক্তারা তাদের পণ্য ও সেবার গুণগত মান, উদ্ভাবন ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরেন। ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, বাজার চাহিদা বিশ্লেষণ, দরকষাকষি ও অর্ডার গ্রহণের মাধ্যমে তারা বাস্তব বাণিজ্যিক সুফল অর্জন করেন।
উদ্যোক্তারা এই মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নতুন বাজার সম্পর্কে ধারণা লাভ, আন্তর্জাতিক মান ও প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিতি এবং পণ্য উন্নয়নের সুযোগ পাবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উপদেষ্টা বলেন,উদ্যোক্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাণিজ্য মেলাকে সফল করে তুলবে এবং দেশের রফতানি প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
তিনি আরও বলেন , দেশের রফতানি পণ্য বহুমুখীকরণের পদক্ষেপ হিসেবে সরকার নানামুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছে। এরমধ্যে রফতানিতে অবদান ও সম্ভাবনার বিষয় বিবেচনাক্রমে বিভিন্ন পণ্য খাতকে যথাক্রমে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার খাত ও বিশেষ অগ্রাধিকার খাত হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এছাড়া রফতানি প্রসার ও প্রনোদনামূলক কর্মকাণ্ডকে বেগবান করতে প্রতি বছর একটি পণ্যকে বর্ষপণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘোষিত পণ্যের উৎপাদন ও বিপণনে উৎসাহিতকরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এবার পেপার অ্যান্ড প্যাকেজিং প্রোডাক্টসকে ২০২৬ সালের বর্ষপণ্য হিসেবে ঘোষণা করছি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান এবং এফবিসিসিআইর প্রশাসক মো. আব্দুর রহিম খান।
উল্লেখ্য, ১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা উদ্বোধনের তারিখ ঠিক করা হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করে সরকার। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনের তারিখ পরিবর্তন করে ৩ জানুয়ারি করা হয়।
এবারের মেলায় পলিথিন ব্যাগ এবং সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে হ্রাসকৃত মূল্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ সরবরাহ করা হবে।
মেলার লে-আউট প্ল্যান অনুযায়ী বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৩২৪টি প্যাভিলিয়ন/স্টল/রেস্টুরেন্ট দেশীয় উৎপাদক-রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।