জাতীয়

সংবিধান সংস্কার নয়, সংশোধন হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংবিধান পুনর্লিখন নয় বরং সংশোধনের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশিত সংস্কার বাস্তবায়ন করা উচিত।

রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জুলাই জাতীয় জুলাই সনদ ও সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত প্রস্তাবে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। 

এসময় মন্ত্রী সংবিধান সংশোধনের জন্য সকল দলের সমন্বয়ে একটি ‘বিশেষ সংসদীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দেন। বলেন, 'সংবিধান সংস্কার নামে নতুন সংবিধান তৈরির কোনো প্রয়োজন নেই-সংশোধনের মাধ্যমে সব পরিবর্তন সম্ভব।'

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধানে 'মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস' পুনর্বহালের দাবি জানান, যা পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবিধানের মূলনীতি এবং আর্টিকেল আটে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে এটি পুনঃস্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ একটি ঐতিহাসিক দলিল, যা গণঅভ্যুত্থানের অভিপ্রায়ের প্রতিফলন। এই সনদের দফাগুলো কার্যকর করতে সংসদের মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। এ লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত একটি সর্বদলীয় বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন, যেখানে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা একসঙ্গে কাজ করবেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, সংবিধান 'সংস্কার' নয়, বরং ‘সংশোধন, স্থগিত, রহিত বা বাতিল’ হতে পারে। তাই নতুন সংবিধান প্রণয়নের ধারণা অপ্রয়োজনীয়। তিনি পঞ্চদশ সংশোধনীকে অগণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়ে বলেন, এর কিছু ধারা ইতোমধ্যে আদালত বাতিল করেছে এবং বাকি অংশ সংসদের মাধ্যমে বাতিল করা সম্ভব।

সংবিধান ছুড়ে ফেলে দেয়ার বিষয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বক্তব্য বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য আরও বলেন, রূপক অর্থে ছুড়ে ফেলে দেয়ার কথা বলেছিলেন, বেগম খালেদা জিয়া। পঞ্চদশ সংশোধনী উদ্দেশ্য করে ছুড়ে ফেলার কথা বলেছিলেন তিনি। তা তো ছুড়ে ফেলা হয়েছে।

মন্ত্রী তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের ওপর জোর দিয়ে বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে এই দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সংসদের মাধ্যমে এটি কার্যকর করা উচিত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা জনগণ দ্বারা নির্বাচিত সংসদের হাতে থাকা উচিত। চূড়ান্ত আইন প্রণয়নের ক্ষমতা কোনো অ-নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়া ঠিক নয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের উদাহরণ তুলে ধরেন, যেখানে আইন প্রণয়ন ক্ষমতা নির্বাচিত সংসদের হাতে থাকে।

তিনি একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেন, যেখানে সরকার ও বিরোধী দলের পাশাপাশি নিরপেক্ষ প্রতিনিধিত্ব থাকবে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন, তবে সংসদের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানান।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং সেই ক্ষমতা সংসদের মাধ্যমে প্রয়োগ হয়। জুলাই জাতীয় সনদের সকল দফা ও অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এসময় সংসদীয় আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করে জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।