জাতীয়

অবকাঠামো উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় নতুন লক্ষ্য কর্মসংস্থান ও শিল্পায়ন: চীফ হুইপ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রথমেই তাঁর মনে হয়েছে আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করার কথা। এই অবস্থানে আসা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি একটি বড় দায়িত্ব, যা সঠিকভাবে পালন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বেসরকারি টেলিভিশন, ‘চ্যানেল আই’ এর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান, ‘ভিন্নমতে সহমত’- এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চীফ হুইপ, নুরুল ইসলাম মনি জানান, জনগণের আস্থা ও সমর্থনের কারণেই তিনি এই জায়গায় পৌঁছেছেন এবং সেই আস্থার প্রতিদান দেওয়া তাঁর জন্য একটি বড় দায়িত্ব। তাঁর ভাষায়, যারা তাঁকে নির্বাচিত করেছেন, তাদের প্রত্যাশা পূরণ করা এবং তাদের পক্ষে কাজ করা একটি “ভারী দায়িত্ব”, যা তিনি গুরুত্বের সঙ্গে পালন করতে চান।

নিজ দায়িত্ব প্রসঙ্গে চীফ হুইপ বলেন, সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সঠিকভাবে কর আদায় নিশ্চিত করা এবং রাজস্ব ব্যবস্থায় যেন কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপচয় না হয়, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। তাঁর মতে, একটি কার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে এসব মৌলিক বিষয়গুলো সঠিকভাবে পরিচালিত হওয়া অপরিহার্য।

নিজ নির্বাচনী এলাকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি সবসময় এলাকার সাধারণ মানুষের প্রয়োজন ও সমস্যাকে অগ্রাধিকার দেন। তাঁর মতে, একটি দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির কাজ হলো জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখা এবং তাদের সমস্যার সমাধানে সক্রিয়ভাবে কাজ করা।

অতীত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, একসময় তাঁর এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন খুবই সীমিত ছিল। রাস্তাঘাট ও বিদ্যুতের অভাব ছিল প্রকট। তবে তিনি দাবি করেন, তাঁর দায়িত্ব পালনকালে এসব খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে, বিশেষ করে বিদ্যুৎ সংযোগ সম্প্রসারণে কাজ করেছেন তিনি।

তবে এখনো কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে বলে স্বীকার করেন চীফ হুইপ।

বিশেষ করে নদীভাঙন একটি বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন থানায় নদীভাঙনের কারণে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং এটি সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বালেশ্বর নদী-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ নদীসংলগ্ন অঞ্চলের ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেন।

অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় সম্পদ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে শিল্পায়নের দিকে এগোতে হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি মৎস্যখাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, ফিশ প্রসেসিং শিল্প গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচি রয়েছে, যা বাস্তবায়ন করা গেলে স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, দেশের উন্নয়নে তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করতে হবে। প্রযুক্তিগত শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। শুধু সাধারণ শিক্ষা নয়, বরং বাস্তবমুখী ও পেশাভিত্তিক দক্ষতা গড়ে তোলার দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একসময় দেশে দারিদ্র্যের হার অনেক বেশি ছিল, তবে বর্তমানে অবস্থার উন্নতি হলেও এখনো অনেক মানুষের স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা নেই। তাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আয়ের সুযোগ বাড়ানোই এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

সার্বিকভাবে, চীফ হুইপের বক্তব্যে দায়িত্ববোধ, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব পরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়নই নির্ধারণ করবে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের গতি এবং জনগণের জীবনমানের পরিবর্তন।