জাতীয়

অমর একুশে বইমেলায় সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে: ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মোঃ সরওয়ার বিপিএম-সেবা (অতিরিক্ত আইজি) বলেছেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আয়োজন করা হয়েছে “অমর একুশে বইমেলা”। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি হতে ১৫ মার্চ পর্যন্ত বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ তদসংলগ্ন এলাকায় বাংলা একাডেমি কর্তৃক আয়োজিত হতে যাচ্ছে এ বইমেলা।

আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সকালে বইমেলা প্রাঙ্গণে স্থাপিত পুলিশ নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সামনে বইমেলা-২০২৬ উপলক্ষে ডিএমপি কর্তৃক গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রেস ব্রিফিং কালে এসব কথা বলেন ।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) বলেন, প্রতিবারের ন্যায় এবারও বইমেলাকে ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। মেলা প্রাঙ্গণে স্থাপিত পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ কর্তৃক গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। কন্ট্রোল রুমে রাতেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করবেন। বইমেলার সার্বিক নিরাপত্তায় থাকবে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য।

তিনি আরও বলেন, বইমেলায় বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান গেইট কেন্দ্রিক ও অভ্যন্তরীণ কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। ইউনিফর্মড পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোষাকে পুলিশের বিশেষ টিম মোতায়েন থাকবে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে লোকসমাগম বেশি থাকে বিধায় এ সময়গুলোতে থাকবে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বইমেলা প্রাঙ্গণ কেন্দ্রিক ফুট পেট্রোল ব্যবস্থা ও মুক্তমঞ্চ কেন্দ্রিক বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।

বইমেলার প্রবেশমুখে মেটাল ডিটেক্টর ও আর্চওয়ে দ্বারা চেকিং এর পাশাপাশি ম্যানুয়াল চেকিং এর ব্যবস্থা থাকবে। বড় ব্যাগ, কার্টুন, দাহ্য পদার্থ নিয়ে মেলায় কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে মেলার ভিতরে ও চারপাশে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। ডগ স্কোয়াড দ্বারা মেলা প্রাঙ্গণ ও আশেপাশের এলাকা সুইপিং করা হবে। হকার, বখাটে, ছিনতাইকারী ও পকেটমারের তৎপরতা রোধে বিশেষ টিমের ব্যবস্থা থাকবে। মেলায় আগত নারী-শিশুদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। বইমেলা কেন্দ্রিক বিভিন্ন প্রবেশ পথে নিরাপত্তা ব্যারিকেড স্থাপন করা হবে। এছাড়া পিকেট ও দূরবর্তী চেকপোস্ট ব্যবস্থা থাকবে।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) বলেন, বইমেলা প্রাঙ্গণে ফায়ার টেন্ডার, অ্যাম্বুলেন্স ও প্রাথমিক চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকবে। সার্চ লাইটের ব্যবস্থা থাকবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় ডিবি, সিটিটিসি, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, সোয়াটসহ ডিএমপির বিশেষায়িত টিমগুলো সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। বইমেলায় লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেন্টার, ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার, হেল্প ডেস্ক ও শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র থাকবে। মেলার পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং আগত দর্শনার্থীদের সুস্বাস্থ্য রক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করা হবে। বইমেলায় বিশুদ্ধ খাবার পানি বিতরণের ব্যবস্থা থাকবে।

তিনি বলেন, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক পৃথক ট্রাফিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বইমেলা উপলক্ষে কয়েকটি জায়গায় ট্রাফিক ডাইভারশন দেয়া হবে। বই মেলা চলাকালীন সময়ে দিনে ও রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কোন ভারী যানবাহন প্রবেশ করবেনা। এবার টিএসসি হতে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত রাস্তা সবসময় বন্ধ থাকবে না। আগত দর্শনার্থীদের সংখ্যা বিবেচনা করে কখনো বন্ধ থাকবে, কখনো খোলা থাকবে।

প্রেস ব্রিফিং এ ডিএমপির ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোঃ আনিছুর রহমান বলেন, বই মেলায় আগত অনুমোদিত যানবাহনের জন্য পার্কিং স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। পার্কিং এলাকায় যানবাহন সুশৃঙ্খলভাবে প্রবেশ ও বাহির নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নো-পার্কিং জোনে কোন গাড়ি পার্কিং করা যাবেনা। নীলক্ষেত/ভিসি বাংলো ক্রসিং হতে আগত গাড়িসমূহ হাকীম চত্ত্বর ইউটার্ন/রাইট টার্ন,শাহবাগ ক্রসিং হতে আগত গাড়িসমূহ রাজু ভাস্কর্য ইউটার্ন/লেফট টার্ন এবং দোয়েল চত্ত্বর ক্রসিং হতে আগত গাড়িসমূহ তিন নেতার মাজার গ্যাপ ইউটার্ন হয়ে বইমেলা সংশ্লিষ্ট পার্কিং স্থান অথবা গন্তব্যে পৌঁছাবে।

প্রেস ব্রিফিং শেষে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) বইমেলার সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বইমেলায় স্থাপিত কয়েকটি স্টলে প্রবেশ করেন ও মেলা প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শনকালে তিনি উপস্থিত ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের সাথে কথা বলেন এবং বইমেলার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।