মাদক ও মানবপাচার সমূলে উৎপাটনে টেকনাফ থেকে বিশেষ অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, 'মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের নির্ধারিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে।' তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে, যাতে বাংলাদেশকে মাদকমুক্ত করা যায়।
আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে টেকনাফ এজাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কক্সবাজার সীমান্ত দিয়ে মানবপাচারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'দেশের কিছু অঞ্চলে-বিশেষ করে টেকনাফ, উখিয়া ও কক্সবাজার এলাকায়-এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। মানব পাচার রোধে ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকল পয়েন্টে কঠোর নজরদারি ও সুসংগঠিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে এ অপরাধ দমন করা হবে।'
জুয়া ও অনলাইন জুয়ার ভয়াবহতা উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, 'জুয়া ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার বর্তমানে একটি সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এ সমস্যার সমাধানে কীভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে বিষয়ে সরকার গবেষণা করছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।'
এ সময় অপরাধ দমনে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'জনগণের তথ্য ও সচেতনতা এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোথায় কী ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, সে সম্পর্কে তথ্য প্রদান করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও কার্যকরভাবে ব্যবস্থা নিতে পারবে।'
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে একযোগে ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার কৃষকদের মাঝে 'কৃষক কার্ড' বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর টেকনাফে এক হাজার ৬৯৮ জন কৃষকের হাতে এই কার্ড তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, লুৎফুর রহমান কাজল, আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ। এছাড়াও জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান, পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমানসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, আজ সকাল সাড়ে ৯টায় সড়কপথে টেকনাফ স্থলবন্দরে পৌঁছান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয় বলে নিশ্চিত করেছেন বন্দর পরিচালনাকারী সংস্থা ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেড টেকনাফের মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন চৌধুরী।
মন্ত্রী টেকনাফ স্থলবন্দরের জেটিঘাট পরিদর্শন করেন এবং বন্দরের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পরে তিনি বন্দরের গুদাম, বিভিন্ন ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঘুরে দেখেন। এসময় তিনি বন্দর ভবনের ওপর থেকে নাফ নদীর জলসীমাও পর্যবেক্ষণ করেন।
জসিম উদ্দিন চৌধুরী জানান, স্থলবন্দর পরিদর্শনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বন্দরের নিয়মিত কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করা হয়। একই সঙ্গে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে ঠিক কখন থেকে স্থলবন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হয়।