বিগত দিনের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ ব্যর্থ হয়নি বলে মনে করে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা। তারা বলছে, স্বেচ্ছায় নিজ জায়গায় ফেরত না গেলে টেকসই হবে না প্রত্যাবাসন। নিরাপত্তা না পেলে রোহিঙ্গারা আবার বাংলাদেশে ফিরে আসবে। তাই রাখাইনে শান্তি ফেরাতে কাজ করতে হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে।
২০১৮ ও ২০১৯ সালের পর ২০২৩ সালে উদ্যোগ নেয়া হয় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের। কিন্তু কোনো উদ্যোগই সফল হয়নি। ফেরত যাননি একজনও। ফলে কক্সবাজার এবং ভাসানচরের ক্যাম্পে বসবাস করছে ১৩ লাখের বেশি নাগরিকত্বহীন এসব মানুষ।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার সর্বশেষ তথ্য বলছে, গত ১৮ মাসে দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে নতুন করে এসেছে।
ইউএনএইচসিআরের সহকারী হাই কমিশনার রাউফ মাজু বলেন, রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফেরত না গেলে টেকসই হবে না প্রত্যাবাসন।
তিনি আরও বলেন, আমরা বলব না আগের উদ্যোগ বা প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়েছে। রোহিঙ্গারা তাদের নিজ জায়গায় ফেরত যেতে চায়, কিন্তু প্রধান বাধা হচ্ছে—যেখান থেকে তারা এসেছে সেখানে এখনও সহিংসতা চলছে। প্রত্যাবাসন হতে হবে টেকসই, স্বেচ্ছায় এবং সম্মানজনক। স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন না হলে তা টেকসই হবে না। প্রত্যাবাসনের পর নিজ এলাকায় নিরাপত্তা না পেলে তারা আবার ফেরত আসবে।
জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা আরও জানান, যে সমস্যা তৈরি হয়েছে তার সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে। বলেন, মিয়ানমারের সমস্যা দেশটিকেই সমাধান করতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ, আঞ্চলিক জোট—সবার একসাথে সহযোগিতা করতে হবে, যাতে সেখানে শান্তি ফিরে আসে এবং রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফেরত যায়। নিরাপদ অঞ্চলের যে কথা বলা হচ্ছে, সেটি নিরাপদ রাখতে হবে। সেটি করবে কে? বাংলাদেশে তারা নিরাপত্তা পাচ্ছে বলেই এখানে থাকছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা বলছে, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার পাশাপাশি জোর দিতে হবে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে। যাতে তারা ফেরত গিয়ে নিজ দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।