সরকারি আইনি সেবার পরিধি বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের আদালতসমূহে বিচারাধীন মামলার অস্বাভাবিক চাপ কমাতে বিদ্যমান আইনের সময়োপযোগী সংস্কারের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত আইনগত সহায়তা প্রদান আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ এর খসড়ার ওপর আজ এক মতবিনিময় সভা জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার সম্মেলন কক্ষে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার চেয়ারম্যান ড. আসিফ নজরুল এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বিভিন্ন প্রকার দেওয়ানী ও ফৌজদারি বিরোধ নিষ্পত্তিতে বাধ্যতামূলকভাবে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে মধ্যস্থতা কার্যক্রম অনুষ্ঠানের বিধান রাখা হয়েছে। তদুদ্দেশ্যে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজগনকে স্পেশাল মেডিয়েটর নিয়োগ ও মধ্যস্থতা চুক্তিকে। আদালতের ডিক্রি গণ্য করে যুগান্তকারী বিধান সংশোধনীতে সন্নিবেশ করা হয়েছে।
উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের আদালতে ব্যয়িত সময়ের এক-দশমাংশ সময়ের মধ্যে লিগ্যাল এইড অফিসে অনেক বিরোধ মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা সম্ভব এবং প্রস্তাবিত সংশোধনের মাধ্যমে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে বছরে প্রায় ২ লক্ষ মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব।
সভায় উপস্থিত জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার পরিচালক সৈয়দ আজাদ সুবহানী তাঁর বক্তব্যে বলেন যে, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে যে কোন ব্যক্তি বিনা খরচে আইনি পরামর্শ ও মধ্যস্থতা সেবা পেয়ে থাকে। প্রস্তাবিত সংশোধনীর বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতার বিধানের ফলে প্রায় অর্ধকোটি মামলার ভাবে জর্জরিত আদালতের উপর চাপ হ্রাস পাবে এবং তৃনমূল পর্যায়ে সরকারি আইনি সেবার মান বৃদ্ধি পাবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনাব মোঃ সাইফুল ইসলাম, জনাব এস, এম, এরশাদুল আলম, যুগ্মসচিব (প্রশাসন-২), জনাব রুহুল আমীন, যুগ্ম সচিবং বাজেট ও উন্নয়ন)সহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার পরিচালক এবং অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ, ঢাকা জেলার লিগ্যাল এইড অফিসার, ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা জেলার আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ, ইউএনডিপি বাংলাদেশ, জিআইজেড বাংলাদেশ, আইএলও, মাদারীপুর লিগ্যাল এইড অ্যাসোসিয়েশন, ব্লাস্ট, ব্ল্যাক এবং প্রশিকা-এর প্রতিনিধিবৃন্দ।
সভায় অংশগ্রহণকারীগণ প্রস্তাবিত সংশোধনীর বিভিন্ন দিক নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করেন এবং মূলানান পরামর্শ প্রদান করেন।