জাতীয়

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের জোর তৎপরতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপরতা জোরদার করেছেন সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্যরা।  

দেশে যে কোনো ধরনের সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা রুখতে বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগসহ (সিআইডি) আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। 

পুলিশ বাহিনী অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ প্রতিরোধ ও তদন্ত করা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে। 

এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির পেছনে টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি, অপরাধীদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযান, প্রযুক্তি নির্ভর নজরদারি এবং পুলিশ ও জনগণের সমন্বিত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে যথেষ্ট ভালো। 

এদিকে বর্তমান সরকার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের মার্চ মাসে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি)'র অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে মোট ৯ হাজার ২৫৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

এছাড়া মার্চ মাসে রাজধানীর ১১টি থানা বিভিন্ন অপরাধে ২ হাজার ৬২৫ জনকে গ্রেফতার করে। এরমধ্যে মোহাম্মদপুর থানা ৬৭৪, হাজারীবাগ থানা ৪৯৪, নিউমার্কেট থানা ৫১, মিরপুর থানা ৪৬৯, শাহবাগ থানা  ১৫৯, বংশাল থানা ১৩২, লালবাগ থানা ১২৮, উত্তরা পশ্চিম থানা ২৩৪, ধানমন্ডি থানা ৬৭, বাড্ডা থানা ১১৫ এবং মতিঝিল থানা ১০২ জনকে গ্রেফতার করে। 

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যথেষ্ট ভালো, তবে তা আরও উন্নত হবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) খুন, অর্থ পাচার, সাইবার অপরাধ, জালিয়াতি, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণের মতো বিশেষায়িত ক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছে। সিআইডি এসব অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে তৎপর  রয়েছে। 

এ বিষয়ে সিআইডি’র বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বলেন, সিআইডি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে বিভিন্ন অপরাধে সাতজনকে গ্রেফতার করেছে।  মামলা করেছে ছয়টি এর মধ্যে মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত মামলা দুটি।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন বাসসকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছে। ঢাকা মহানগরীতে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদকব্যবসায়ী, ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাদক, অবৈধ অস্ত্র, দালাল চক্র এবং ভেজালবিরোধী জোরালো অভিযান পরিচালনা করছে। 

র‌্যাবের মিডিয়া শাখা থেকে জানানো হয়েছে, এ বছর ফেব্রুয়ারি  মাসে বিভিন্ন অপরাধে  ৬২৭ জনকে গ্রেফতার ও ৪৪টি মোবাইল কোর্ট এবং মার্চ মাসে বিভিন্ন অপরাধে ৮৫২ জনকে গ্রেফতার ও ৯৯ টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশের সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করছে। সীমান্ত পাড়ি দিয়ে চোরাচালান, মাদক ও নারী-শিশু পাচার প্রতিরোধ করা, সীমান্ত লঙ্ঘন রোধ, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করে যাচ্ছে। 

এ প্রসঙ্গে বিজিবি’র জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানিয়েছেন, চলতি বছরের মার্চ মাসে দেশের সীমান্ত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১৬৫ কোটি ৭৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকারের চোরাচালান পণ্যসামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।

মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, উক্ত এলাকায় প্রতিনিয়ত অভিযান চালানো হচ্ছে। অপরাধীদের অবস্থান চিহ্নিত করে তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, গত মার্চ মাসে বিভিন্ন অপরাধে ৬৭৩ জনকে গ্রেফতার এবং ৭ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। সম্প্রতি আসাদুল হত্যার আসামিদেরও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও টহল জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। 

মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী, কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসীদের দমনে আমরা তৎপর রয়েছি। মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় সন্ত্রাসীদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।

নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, উক্ত থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সচেষ্ট আছি। এ জন্য বিভিন্ন টিম কাজ করছে। অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। 

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা কাজ করছি। উক্ত থানা এলাকায় আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে বাস করছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বাড্ডা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী মো. নাসিরুল আমিন বলেন, উক্ত থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন উন্নত হচ্ছে। নিয়মিত মাদক বিরোধী অভিযান চালানো হচ্ছে। আইনের মধ্যে থেকে কাজ করছি।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, উক্ত থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো, তবে তা আরও উন্নত করতে কাজ করছি।  

তিনি বলেন,  সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে আমরা নিরলসভাবে কাজ  করে যাচ্ছি।