বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দলটির শীর্ষ নেতা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, আওয়ামী লীগ কোনো একক ব্যক্তির দল নয় এবং রাজনৈতিক সংকট মানেই দলের শেষ নয়।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ আদৌ আছে কি না, এই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন দলটির শীর্ষ নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে, সজীব ওয়াজেদ জয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-র এক অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দল, নেতৃত্ব এবং শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে খোলামেলা বক্তব্য দেন।
সাক্ষাৎকারটি পরিচালনা করেন আল জাজিরার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন।
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় প্রসঙ্গে জয় বলেন, আওয়ামী লীগ একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দল, যা বহু সংকট ও রাজনৈতিক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। তার ভাষায়, বর্তমান সংকটকে দলের সমাপ্তি হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
তিনি বলেন, দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে আত্মসমালোচনা করতে হবে এবং জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। জয়ের বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে শেখ হাসিনা ধীরে ধীরে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে আসার পরিকল্পনাই করেছিলেন।
তিনি বলেন, বয়স ও দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কথা বিবেচনায় নিয়ে এটি শেখ হাসিনার শেষ মেয়াদ হতে পারত। বর্তমান পরিস্থিতিতে তার আবার সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনা কম বলেও মন্তব্য করেন জয়।
২০২৪ সালের গণআন্দোলন ও সরকার পতনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জয় বলেন, ওই সময়ের পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সবসময় সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপটে উঠে আসেনি।
তার মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা অত্যন্ত জটিল এবং অনেক সিদ্ধান্ত ও ঘটনা বাইরে থেকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ ভবিষ্যতে আবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি না, এমন প্রশ্নে জয় সরাসরি কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি। তবে তিনি বলেন, পরিস্থিতির ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে।আইনি কাঠামো, রাজনৈতিক পরিবেশ এবং দলীয় সংস্কারের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।
তার বক্তব্যে স্পষ্ট, আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছে না, বরং নতুন বাস্তবতায় নিজেদের অবস্থান খুঁজছে।
সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কেবল শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে নয়। দলকে এগিয়ে নিতে নতুন নেতৃত্ব, নতুন চিন্তাভাবনা এবং সাংগঠনিক পুনর্গঠন প্রয়োজন।
তিনি জানান, নেতৃত্ব কারা দেবে, সেটি দলের ভেতর থেকেই সময়ের প্রয়োজনে নির্ধারিত হবে।
আল জাজিরাকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ জয় একদিকে আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক শক্তির কথা তুলে ধরেছেন, অন্যদিকে দলীয় ভুল, নেতৃত্ব পরিবর্তন এবং সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাও স্বীকার করেছেন। রাজনৈতিকভাবে চাপে থাকা আওয়ামী লীগ ভবিষ্যতে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে, সে প্রশ্নের পূর্ণ উত্তর না মিললেও, দলটি যে রাজনীতি থেকে বিদায় নিচ্ছে না, সেই বার্তাই স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।