গত ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন। এতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার নেতৃত্বাধীন বিপ্লবের পর অনুষ্ঠিত এই প্রথম নির্বাচনে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি।
মূলত, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামীর আবির্ভাবও ঘটেছে। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের পর থেকে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিই পালাক্রমে শাসন করেছে ঢাকার মসনদ। জামায়াত এককভাবে কখনো ক্ষমতায় ছিলো না। তবে এবার তারা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভালো সমর্থন পেয়েছে।
জাতীয় সংসদে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার সুবাদে বিএনপি সরকার শুরুতে যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারে এবং নিজেদের খুশিমতো নতুন আইন প্রণয়ন করতে পারে— এমনটা ভাবা হলেও অর্থনীতির ক্ষেত্রে হোঁচট খেলে বিএনপি সরকার একদিকে জামায়াতে ইসলামী এবং অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সুপ্ত জনসমর্থনের চাপের মুখে পড়তে পারে।
লক্ষণীয় বিষয় হলো, কর্মসংস্থান ও দুর্নীতি নিয়ে তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষ সহজে মিটে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া তারেক রহমানকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। তবে তার রাজনৈতিক সাফল্য নির্ভর করবে অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করার ওপর।
বিএনপি ২০৩৪ সালের মধ্যে নামমাত্র জিডিপির আকার ৪৬০ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার অর্থাৎ অর্থনীতি দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রায় ৯ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন, যা বর্তমানে ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির দেশে একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। দলটি শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য খাতে ০.৭৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু এ ধরনের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজনীয় সরকারি রাজস্ব বাড়ানোর কোনো বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা এখনো নেই। প্রবৃদ্ধির হার দ্বিগুণের বেশি করতে হলে বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ২৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করতে হবে।
এদিকে, গত দেড় বছর ধরে উচ্চ সুদহার অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, শুধু মুদ্রানীতিই নয়; বরং বণ্টনব্যবস্থার কাঠামোগত সমস্যাই উচ্চ খাদ্যমূল্যের প্রধান কারণ। এটিই তারেক রহমান সরকারের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।
জিডিপির ১২ শতাংশ আসে কৃষি থেকে এবং বাংলাদেশের প্রায় ৫ কোটি মানুষ (কর্মসংস্থানের ৪৪ শতাংশ) এই খাতে যুক্ত। শহরাঞ্চলে খাদ্যের দাম কমাতে এবং চাপের মুখে থাকা কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে খামার থেকে শহর পর্যন্ত খাদ্য সরবরাহ প্রক্রিয়ায় থাকা শক্তিশালী ও অনিয়ন্ত্রিত মধ্যস্বত্বভোগীদের দমনে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। সরবরাহ ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাকে ফসল কাটার পরবর্তী লজিস্টিক খাতেও বিনিয়োগ করতে হবে।
আরেকটি অগ্রাধিকার হতে হবে প্রবাসী কর্মীদের রেমিট্যান্স বা রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনা, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) যেকোনো প্রোগ্রামের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রায় ১ কোটি বাংলাদেশি বিদেশে, বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোতে কাজ করেন। তারা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষায় আইএমএফের চেয়েও বেশি ভূমিকা রেখেছেন। মাত্র তিন মাসে তারা প্রায় ৭.৫ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন, যা দেশটির জন্য দেওয়া আইএমএফের পুরো সহায়তা প্যাকেজের সমান।
২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনেক প্রবাসীকর্মী অবৈধ হুন্ডি চ্যানেল থেকে সরে এসে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের দিকে ঝুঁকেছেন। এর ফল ছিল নাটকীয় রেমিট্যান্স। ২০২৩ সালের ২১ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তুলনা করলে দেখা যায়, এই ৯ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি আমেরিকান বাজারে বাংলাদেশের মোট বার্ষিক পোশাক রফতানির চেয়েও বেশি। যদি অবৈধ চ্যানেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়, তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এই গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ হারাতে পারে।
প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি প্রতিবছর চাকরির জন্য বিদেশে যান। এটি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তার পথ, কারণ প্রতিবছর ২০ লাখ নতুন কর্মপ্রত্যাশী তৈরি হলেও দেশটির অর্থনীতি সবাইকে জায়গা দিতে পারছে না। দুর্ভাগ্যবশত, শ্রম রফতানি খাতে তীব্র দুর্নীতি ও শোষণ বিদ্যমান। বেশ কিছু দেশ এরই মধ্যে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য তাদের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে, যা নতুন সুযোগের জন্য দেশটিকে বিপজ্জনকভাবে সৌদি আরবের ওপর নির্ভরশীল করে তুলেছে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন বিষয়ক একটি প্রতিবেদনের নেতৃত্ব দিয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ খান আহমেদ সাঈদ মুরশিদ। দেশে সামগ্রিক সংস্কারের বিষয়ে তিনি বাস্তববাদী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, বিএনপির উচিত বড় পরিকল্পনা মাথায় রাখা, তবে জরুরি বাস্তবায়নের জন্য ‘উচ্চ-প্রভাবশালী ছোট ছোট প্রকল্পে’র দিকেও দৃষ্টিপাত করা। নতুন প্রশাসনকে অবশ্যই শিল্পের জন্য নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত আর্থিক খাত মেরামত করতে হবে। সব কিছুর ওপরে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে ২০২৬ সালের নভেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ, যার ফলে বাংলাদেশ সেই বাণিজ্যিক সুবিধাগুলো হারাবে, যার ওপর রফতানিকারকরা এখনও নির্ভরশীল।
বড় পরিসরে অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করা একটি দেশের ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গেও জড়িত। তারেক রহমানের প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো থেকে অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে কিছুটা বিভ্রান্তি লক্ষ করা যাচ্ছে। নির্বাচনি ইশতেহারে বিএনপি আসিয়ানে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের সামনে প্রথম উপস্থিত হয়ে তারেক রহমান সার্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা ১৯৮০ সালে তার পিতা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন। সার্ক বর্তমানে একটি অকার্যকর আঞ্চলিক সংস্থা। গত বছর ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ, তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সঙ্গে উপমহাদেশের সার্বিক আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যও অন্যতম অনুঘটক।
অপরদিকে, আসিয়ান সদস্য দেশ মিয়ানমারের সঙ্গে রয়েছে বাংলাদেশের সীমান্ত। মিয়ানমার থেকে আসা ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী এখনও বাংলাদেশে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে, যার কোনো সমাধান এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। আসিয়ানে যোগ দিলে বাংলাদেশ বৈচিত্র্যময় সরবরাহ শৃঙ্খল এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ পাবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘতম সীমান্ত থাকলেও ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পতনের পর দুই দেশের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে। শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান এবং তাকে বিচারের জন্য হস্তান্তরে দিল্লির অস্বীকৃতি ঢাকায় তীব্র সমালোচনারও জন্ম দেয়। বিভিন্ন বক্তব্যের কারণে দুই দেশের মধ্যে কার্যত ভিসা কার্যক্রমও এখন স্থগিত। ক্রীড়াক্ষেত্রেও ভালো সম্পর্কের অবনতি দেখা গেছে।
এই প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রতি ব্যাপক ক্ষোভ ও অবিশ্বাসের প্রেক্ষাপটে দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিএনপিকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পা বাড়াতে হবে। অন্যদিকে অবকাঠামো বা নতুন শিল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতা ভারতের অত্যন্ত কম। দিল্লির বিরুদ্ধে একপেশে চুক্তি চাপিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে, বিশেষ করে আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তি। এই গ্রুপটির সঙ্গে ভারত সরকারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং তারা বাংলাদেশের ১৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।
দিল্লির উচিত হবে আমদানির ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধাগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো অথবা ভাটির দেশ বাংলাদেশের দিকে পানির ন্যায্য প্রবাহে একমত হওয়া। এই ফ্রন্টগুলোর কোনোটিতেই দিল্লির নমনীয় হওয়ার সম্ভাবনা কম হওয়ায় ভবিষ্যতে দুই দেশের যেকোনো সমঝোতা সীমিত থাকবে বলে মনে হয়।
মূলত, তারেক রহমানের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক পরিসরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা। চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার, যাদের সঙ্গে বার্ষিক প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রয়েছে। বেইজিং ঢাকার প্রধান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহকারীও বটে। সম্প্রতি দুই দেশ বাংলাদেশে একটি ড্রোন তৈরির কারখানা স্থাপনের চুক্তি করেছে। বেইজিং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে ২৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পোশাক রফতানির একক বৃহত্তম বাজার এবং জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে তারা শীর্ষে রয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের কয়েক দিন আগে ঢাকায় নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, তিনি নতুন সরকারের সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ‘ঝুঁকিগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরবেন।’ তার এ বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে বেইজিংয়ে। ক্রিস্টেনসেন ইঙ্গিত দেন, ওয়াশিংটন সামরিক সহযোগিতার মাধ্যমে যে ‘সুযোগ-সুবিধা’ অফার করে থাকে, তার ওপর জোর দেবে। তিনি আরও বলেন, মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করছে। এ ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার যে বিনিয়োগবান্ধব, সে বিষয়ে তারেক রহমান সরকারের সুস্পষ্ট ইঙ্গিতের অপেক্ষায় আছেন তারা।
বাংলাদেশি অভিজাত শ্রেণির রাজনৈতিক ঝোঁক পশ্চিমের দিকে হলেও তারা জানেন যে, অবকাঠামো বিনিয়োগ মূলত এশিয়া থেকেই এসেছে। জাপান ও চীন সেতু, বন্দর ও রেলপথ নির্মাণে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বেইজিং নদীর পানি সঞ্চয় করে সেচ কাজে সহায়তার জন্য ১ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রকল্পে অর্থায়নের প্রস্তাব দিয়েছে। গত বছর ১৪৩টি চীনা কোম্পানির একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করে গেলেও তারা অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমে খুব একটা সন্তুষ্ট হতে পারেনি।
চীনারা অপেক্ষায় আছে তারেক রহমান সরকারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার। তিনি যদি ওয়াশিংটনকে ‘সুস্পষ্ট সংকেত’ দেন, তবে আমেরিকান ব্যবসায়ীদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে চীনা বিনিয়োগের জন্য তারেক রহমান বেইজিং সফরে যেতে পারেন।
সরকারের প্রধান হিসেবে নতুন দায়িত্ব ও সার্বিক চ্যালেঞ্জগুলো বিশাল হলেও তারেক রহমানের সামনে অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করা ও বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার সুযোগ রয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি বাবা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মায়ের সন্তান তারেক রহমান নিজ দেশসহ আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করতেও আগ্রহ দেখিয়েছেন। 'স্টেটসম্যান' কিংবা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক অনুঘটক হিসেবে কতটা সফল হন প্রধানমন্ত্রী তারেক— এখন সেটিই দেখার বিষয়।