দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য পাটের বীজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরেও পাট বীজ আনতে হয় অন্য একটি দেশ থেকে। পাট বীজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন তো দূরের কথা, প্রায় পুরোটাই আসে দেশের বাইরে থেকে।’
আজ শনিবার সকালে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধিতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, গত মৌসুমে কাঁচা পাটের উৎপাদন ছিল ১৫ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন এবং পাটজাত পণ্যের উৎপাদন ছিল ৭ লাখ মেট্রিক টন।
তিনি আরও জানান, এর মধ্যে রপ্তানি হয়েছে ২ দশমিক ২৮ লাখ মেট্রিক টন। সার্বিক পাট খাতে মোট রপ্তানি আয় ছিল ১ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা, যা সামগ্রিক রপ্তানি আয়ের ২ শতাংশ।
প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ ও বহুমুখী পণ্যের বিশ্বব্যাপী যে বিশাল বাজার তৈরি হয়েছে, পূর্ববর্তী সরকারগুলো সেদিকে ঠিক মতো নজর দেয়নি উল্লেখ করে মুক্তাদির বলেন, ‘বিশ্ববাজারে পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে, যা বাংলাদেশের জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করছে। পাট থেকে তৈরি বহুমুখী ব্যাগ, জুট ফেব্রিক, কার্পেট, মোবাইল কম্পোজিট, ডেকোরেটিভ আইটেম এবং ফ্যাশন পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এই সম্ভাবনাকে পূর্ণাঙ্গ রূপে কাজে লাগাতে হলে আমাদের কিছু পথ পারি দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘পাট চাষে আধুনিক প্রযুক্তির সীমিত ব্যবহার, উন্নত মানের বীজের অভাব, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, কৃষকের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির সমস্যা এবং বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার দুর্বলতা আমাদের অগ্রগতি ব্যাহত করছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আমাদের পণ্যের গুণগত মান ও ডিজাইন আরও উন্নত করতে হবে।’
‘এই সরকার অন্যতম একটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে, আগামী দিনে পাট বীজে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করব,’ যোগ করেন পাটমন্ত্রী।
মুক্তাদির আরও বলেন, ‘পাট বীজ নিয়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে আমরা গবেষণা করব, অর্থ ও শ্রম ব্যয় করব। আগামী দিনে সেটার প্রতিফলন আপনারা দেখবেন।’
পাটজাত পণ্যের বহুমুখী ব্যবহার উৎসাহিত ও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পাটকে জনপ্রিয় করতে বিএনপি সরকার সমন্বিত উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।