জাতীয়

হাম প্রতিরোধে সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত: স্বাস্থ্য মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

হাম প্রতিরোধে বর্তমান সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ ঢাকা শিশু হাসপাতালে হামজনিত নিউমোনিয়া শ্বাসকষ্টের চিকিৎসায় বাবল সিপ্যাপের ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে স্বাস্থ্য মন্ত্রী এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘বজ্রপাতের মতো এসেছে হাম। আমাদের কোনো প্রস্তুতি ছিল না। তবে অল্প সময়ে হাম প্রতিরোধে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।’

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগামী রোববার থেকে সারা দেশে হামের টিকা দেওয়া শুরু হবে। এতোগুলো শিশু মৃত্যুর ঘটনায় আমি মর্মাহত।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকা ও রাজশাহীসহ সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে, প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। 

এরই মধ্যে হামের চিকিৎসায় কয়েকটি হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, রাজশাহী ও মানিকগঞ্জ ভেন্টিলেটর ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্স প্রস্তুত রয়েছে।

দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে সব স্তরের স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমাদের স্বাস্থ্য কর্মীদের অনেক সংকট আছে, সমস্যা আছে এবং এ ব্যাপরে আমরা ইতোমধ্যে অবগত হয়েছি। 

তিনি বলেন, আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি যে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে আপনাদের সব সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করবো। কিন্তু তার আগে দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে আপনাদের সহযোগিতা চাইছি।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, টিকা দেওয়ার কাজে নিয়োজিত ১ হাজার ৩০৬ জন স্বাস্থ্য সহায়তাকারী দীর্ঘ সময় ধরে বেতন পাচ্ছে না, এটা তাদের মধ্যে অনেক বড় একটি কষ্ট। এছাড়া স্বাস্থ্য সহকারী, সহ-স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিদর্শক মিলে ২৫ হাজারের বেশি, যাদের প্রমোশন আটকে আছে। 

তিনি এ ব্যাপারে বলেন, আমি তাদেরকে আশ্বস্ত করতে চাই, আজকে বা আগামীকালের মধ্যেই তাদের প্রতিনিধিদের ডেকে বিষয়টা ফয়সালা করার চেষ্টা করবো। আমার শুধু অনুরোধ থাকবে, জাতির এ দুর্যোগের সময় আপনারা আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করুন।

ডাক্তারদের অবদান ও মানবিকতার বিষয় উল্লেখ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, আমি চিকিৎসকদের প্রতি অনুরোধ করব, আপনারা মেডিকেল ইথিকসের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিষয় ‘বিশ্বাস’কে প্রাধান্য দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।