নির্বাচনের পর সরকার গঠন করবে যে দল বা জোট সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে—এটাই সাংবিধানিক নিয়ম। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
তবে নতুন সরকার গঠন ও ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ করতে হয়।
তবে নির্বাচন কমিশনের বেসরকারি ফলাফল আনুষ্ঠানিক হিসেবে গণ্য হয় না। ফলাফল গেজেটে প্রকাশে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব সম্প্রতি গণমাধ্যমকে জানান, নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
৫ ফেব্রুয়ারি এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন,
“সবচেয়ে দ্রুত সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে। এটি ১৫ বা ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই হতে পারে।”
সংবিধানের ১৪৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর দায়িত্ব স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের।
তবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর সংসদ ভেঙে যাওয়ায় বর্তমানে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদ শূন্য রয়েছে।
এ অবস্থায় সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে—
রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠের জন্য কাউকে মনোনীত করতে পারেন
নির্ধারিত সময়ে তা না হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াবেন
এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, সরকার দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তর চায়।
৫ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমকে তিনি বলেন,
“রাষ্ট্রপতি চাইলে প্রধান বিচারপতিকে মনোনীত করতে পারেন। আর তা না হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াবেন। তবে এতে তিন দিন অপেক্ষা করতে হয়, যা আমরা এড়াতে চাই।”
সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন ব্যক্তিকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি।
প্রক্রিয়াটি হবে—
রাষ্ট্রপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন
তিনি সংসদ নেতা হিসেবে মনোনীত হবেন
রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাবেন
প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন
শপথের পরপরই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন
সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দায়িত্বপ্রাপ্ত বলে গণ্য হন।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি দ্রুত গেজেট প্রকাশ ও শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হয়, তাহলে নির্বাচনের ছয় দিনের মধ্যেই নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
এর মধ্য দিয়েই বিদায়ী সরকারের কাছ থেকে নতুন সরকারের কাছে সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর সম্পন্ন হবে।