জাতীয়

আইনের শাসন ব্যতীত টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় : ব্যারিস্টার খোকন

নিজস্ব প্রতিবেদক

আমি মনে করি আমাদের অপার সম্ভাবনা আছে। এই সম্ভাবনা অর্জনে আমাদের সিস্টেম এ পরিবর্তন আনতে হবে। পার্লামেন্ট কার্যকর করতে হবে, কারণ অর্থনীতির চাকাটা ঘুরানোর জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা জরুরি।

বেসরকারি টেলিভিশন, চ‍্যানেল আই- এর অনুষ্ঠান "ভিন্নমতে সহমত”- কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্র, আইন ও অর্থনৈতিক চক্র সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, নোয়াখালি-১ আসনের সাংসদ ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

তিনি বলেন, জনগণ সম্মান চায়, জীবনের নিরাপত্তা চায়, সম্পত্তির নিরাপত্তা চায়।  এগুলো নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই মানুষ সন্তুষ্ট থাকবে। অভাব থাকলেও কিন্তু মনে অতৃপ্তি থাকবে না। প্রতিটা মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা আছে, দল করার স্বাধীনতা আছে, মানবাধিকার রক্ষার স্বাধীনতা আছে, এই সবগুলাতে বিশ্বাস করতে হবে। তবেই একটা সিভিলাইজড সোসাইটি গড়ে উঠবে।

আইনের শাসন স্ট্রিক্ট করতে হবে, নাহলে মানুষ মৌলিক অধিকার উপভোগ করতে পারে না। বিচার বিভাগ শক্তিশালী না হলে দেশের কিছুই আগাবে না।

তরুণ জনগোষ্ঠীকে উদ্বুদ্ধ করতে কি ধরণের উদ্যোগ নেওয়া উচিৎ, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের দেশের যে জনশক্তি আছে তা খুবই বিরল, বেশিরভাগ দেশেই জনশক্তির ঘাটতি। আমাদের ছেলে-মেয়েরা বিদেশে ভর্তির সুযোগ পেলেই মনে করে আমি এখানে থেকে যাবো। দেশে ভালো অপরচুনিটি সৃষ্টি করলে, বিনিয়োগ বাড়লে আমাদের যে মেধাবিরা আছে, তারা পড়ালেখা শেষ করে দেশে ফিরে আসবে।

তিনি আরও বলেন, অপরচুনিটি দিতে হবে। চাকরি দিতে হবে, বেকারদের ভাতা দিতে হবে। তাহলে ক্রাইম রেট কমে যাবে। বেকারত্বের কারণেই উচ্চশিক্ষিতরা ক্রাইমে জড়িয়ে পড়ছে। 

ভাতা দিয়ে ক্রাইম বন্ধে নানা পলিসি নেওয়া যায়। যেমন- সুবিধাভোগীরা আইন বহির্ভূত কর্মকাণ্ড করলে বেকার ভাতা হাফ হয়ে যাবে বা বন্ধ হয়ে যাবে। এভাবে পলিসি মেকিং এর মাধ্যমে ক্রাইম কমানো সম্ভব।

আমাদের দেশে মেধাবীদের জন্য জায়গা তৈরি হয়ে গেলে, কাজ করার সুযোগ বাড়বে, ফলে বিনিয়োগ বাড়বে এবং বড় বড় কোম্পানিগুলো এখানে আসতে শুরু করবে। এভাবে করে সাউথ এশিয়ান বা ওয়ার্ল্ড হাব হতে পারে, এতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনা বাড়বে।