জাতীয়

বিরোধী দলের আপত্তির মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও সচিবালয় অধ্যাদেশ রহিতকরণ বিল পাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিরোধী দলের সদস্যদের আপত্তির মধ্যেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৬ রহিত করে দুটি বিল পাশ করেছে জাতীয় সংসদ। 

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এই অধ্যাদেশ তিনটি রহিতকরণের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল ২০২৬ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালায় (রহিতকরণ) বিল ২০২৬ উত্থাপন করেন। এ সময় সংসদে সভাপতিত্ব করছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য জাতীয় সংসদের গঠিত বিশেষ কমিটি এই তিনটি অধ্যাদেশসহ চারটি অধ্যাদেশ রহিত করার সুপারিশ করেছে। রহিতকরণের সুপারিশে থাকা অপর অধ্যাদেশটি হলো জাতীয় সংসদ সচিবালায় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ ২০২৪।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ রহিতকরণ বিল ২০২৬ নিয়ে আপত্তি জানান রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি বলেন, 'এমন একটি অধ্যাদেশ রহিত করা হচ্ছে যে এই নিয়ে আইনমন্ত্রী আর ৫ মিনিট কথা বললে উনি (আইনমন্ত্রী) আত্মগ্লানিতে ভুগবেন।'

এর আগে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪ রহিত করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০০৯ পুনঃপ্রচলন করার উদ্দেশ্যে একটি বিল উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী। ওই সময় এর বিরোধিতা করেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। 

বিরোধীদলের সদস্যদের এই বিরোধিতার মধ্যেও অধ্যাদেশগুলো রহিতকরণে 'হ্যাঁ' ভোট দেন সরকারদলের সংসদ সদস্যরা। ফলে আইনমন্ত্রীর উত্থাপিত বিলগুলো পাশ হয়। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১২তম দিনে দুপুরের বিরতির আগপর্যন্ত ১২টি বিল পাশ হয়। বিলগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও মন্ত্রীর পক্ষে প্রতিমন্ত্রী উত্থাপন করেন।

সকালের অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ অবিকল রেখে পাশ হওয়া বিলগুলো হচ্ছে—জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন) বিল-২০২৬, বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন (সংশোধন) বিল ২০২৬, শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (সংশোধন) বিল-২০২৬, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) বিল-২০২৬, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) বিল-২০২৬, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) বিল- ২০২৬, বাংলাদেশ শ্রম সংশোধন বিল-২০২৬, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) (সংশোধন) বিল-২০২৬ ও আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) বিল-২০২৬।