স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও অভিযানিক কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের আধুনিকীকরণ এবং এর জনবল উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণের সব ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার।
মন্ত্রী আজ রাজধানীর আগারগাঁওস্থ কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড’র ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও কোস্ট গার্ড দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।
কোস্ট গার্ডের আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে সম্প্রতি বহরে তিনটি সার্ভেইলেন্স ড্রোন যুক্ত হয়েছে। জাইকার অর্থায়নে একটি মাল্টিরোল রেসপন্স ভেসেল ও দু’টি অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
মন্ত্রী রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত সুবিধা জোরদার করতে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় একটি আধুনিক ডকইয়ার্ড স্থাপনের পরিকল্পনাও ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, দ্রুত সাড়া প্রদান ও নজরদারি সক্ষমতা আরও বাড়াতে সরকার হেলিকপ্টার, উন্নত সামুদ্রিক নজরদারি ব্যবস্থা এবং উদ্ধারকারী ড্রোন সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে।
জনবল প্রসঙ্গে তিনি জানান, কোস্ট গার্ডের সদস্য সংখ্যা প্রায় ১০ হাজারে উন্নীত করার একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে, যা কর্মদক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কোস্ট গার্ড সদস্যদের আবাসনের চাহিদা মেটাতে মিরপুরের বাউনিয়া এলাকা ও পূর্বাচলে ভূমি অধিগ্রহণ চলছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, এই উদ্যোগগুলো বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে একটি আধুনিক ও সুসজ্জিত বাহিনীতে রূপান্তরিত করবে, যা দেশের সামুদ্রিক সম্পদ ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে কার্যকরভাবে রক্ষা করতে সক্ষম হবে।
দেশের সামুদ্রিক ও উপকূলীয় অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড আজ আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী চিন্তায় প্রতিষ্ঠিত এই বাহিনীকে একটি আধুনিক, শক্তিশালী ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
মন্ত্রী বলেন, ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই এই বাহিনীর যাত্রা শুরু হয়েছিল। আজ এই বাহিনী মাদক চোরাচালান রোধ, মানব পাচার বন্ধ, জলদস্যু দমন এবং সুন্দরবনের বনজ ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সাহসিকতার পরিচয় দিচ্ছে। তিনি বিশেষ করে সুন্দরবনে গত এক বছরে ২৯টি সফল অভিযানে ৩৫ জন ডাকাত গ্রেফতার এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও কাঠ উদ্ধারের জন্য বাহিনীর সদস্যদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বক্তব্যের শুরুতে মন্ত্রী মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে বৈষম্যহীন দেশ গড়ার প্রত্যয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মো. জিয়াউল হক। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
মন্ত্রী বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা, নাবিক এবং অসামরিক ব্যক্তিবর্গের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের জন্য চার জনকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পদক, চার জনকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক, তিন জনকে প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড পদক এবং তিন জনকে প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড (সেবা) পদকসহ মোট ১৪ জন সদস্যের হাত পদক তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে কোস্ট গার্ডের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। মন্ত্রী কোস্ট গার্ড সদর দপ্তর চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন এবং ভিজিটর বুকে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি সামরিক ও অসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।