সরকারি প্রায় ৫ লাখ পদে জনবল নিয়োগের একটি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরে শূন্য থাকা এসব পদে আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রমতে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিভাগ ও দপ্তর-সংস্থার শূন্যপদে নিয়োগের পরিকল্পনা ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পাঠিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে জানতে চেয়েছে আগামী ৬ মাসের মধ্যে পিএসসি কতজন জনবল নিয়োগ দেবে। আমরা আমাদের পুরো পরিকল্পনা জানিয়েছি। তবে কোন পদে কতজন নিয়োগ হবে, তা নথি দেখে বলতে হবে।’
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সবশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ খালি রয়েছে।
এর মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে প্রায় ৬৯ হাজার, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ১ লাখ ২৯ হাজার, তৃতীয় শ্রেণিতে ১ লাখ ৪৭ হাজার এবং চতুর্থ শ্রেণিতে ১ লাখ ১৫ হাজারের বেশি শূন্য পদ রয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জাতীয় সংসদে ঘোষণা করেছেন যে, সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শুধু স্বাস্থ্য খাতেই এক লাখ নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।
এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়া সফল করতে সরকার বড় ধরনের আর্থিক সংস্থানও নিশ্চিত করেছে। মোট ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে এই কর্মযজ্ঞ চলবে, যার সিংহভাগ চলতি অর্থবছরের শেষ চার মাসেই খরচ করা হবে। বাকি অর্থ আগামী অর্থবছরের শুরুতেই ছাড় দেওয়া হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘স্ট্যাটিসটিকস অব পাবলিক সার্ভেন্টস-২০২৪’ অনুযায়ী, সব শ্রেণি মিলিয়ে বর্তমানে ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন সরকারি চাকরিজীবী কর্মরত আছেন। এর বিপরীতে শূন্য আছে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ। বর্তমানে সরকারি চাকরির প্রথম শ্রেণিতে কর্মরত আছেন ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৭৩ জন, এর মধ্যে শূন্য পদ ৬৮ হাজার ৮৮৪টি।
দ্বিতীয় শ্রেণিতে কর্মরত ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৬ জন, শূন্য ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি পদ। তৃতীয় শ্রেণিতে কর্মরত ৬ লাখ ১৩ হাজার ৮৩৫ জন, শূন্য ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি পদ। চতুর্থ শ্রেণিতে কর্মরত ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৭৭ জন, শূন্য ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি পদ।