জাতীয়

লোকসংস্কৃতির বিকাশে আন্তর্জাতিক ফেস্টিভাল হবে: সংস্কৃতি মন্ত্রী

লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্য সংরক্ষণে নেওয়া হচ্ছে নানান উদ্যোগ ও গবেষণার সমন্বিত পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে একটি আন্তর্জাতিক ফেস্টিভাল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই ফেস্টিভালে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো তাদের নিজ নিজ আঞ্চলিক সংস্কৃতির উৎপত্তি, বিকাশ এবং বৈচিত্র্যতা উপস্থাপন করবে। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদার হওয়ার পাশাপাশি, বাংলাদেশের সমৃদ্ধ লোকঐতিহ্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুনভাবে পরিচিতি পাবে।

বেসরকারি টেলিভিশন, ‘চ্যানেল আই’- এর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান, ‘ভিন্নমতে সহমত’- এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই উদ্যোগের কথা জানান, ‘সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের’ মন্ত্রী ও মাগুরা-২ আসনের সাংসদ, নিতাই রায় চৌধুরী।

মন্ত্রী বলেন, লোকসংস্কৃতি একটি জাতির পরিচয়ের মৌলিক ভিত্তি। এটি কেবল বিনোদনের উপাদান নয়, বরং একটি জাতির ইতিহাস, সামাজিক মূল্যবোধ, জীবনধারা এবং সামষ্টিক অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। আধুনিকতার ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মধ্যেও লোকসংস্কৃতি মানুষকে তার শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখে এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বাংলার মাটি ও বাতাসে মিশে থাকা লোকগান 

তিনি যুক্ত করেন, সংস্কৃতির পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত। এটি শুধু গান, কবিতা বা শিল্পচর্চার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং একটি জাতির সামাজিক কাঠামো, মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক সম্পর্কও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই কেবল উৎসব নয়, টেকসই সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা, নথিভুক্তিকরণ এবং প্রজন্মান্তরে জ্ঞান হস্তান্তরের ব্যবস্থা।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন গবেষণা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। লোকসংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদানকে ডিজিটাল আর্কাইভে সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রকাশনা বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগও গ্রহণ করা হচ্ছে।

গ্রাম বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য- লাঠিখেলা

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বায়নের এই যুগে লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণ শুধু ঐতিহ্য রক্ষার বিষয় নয়, বরং এটি সাংস্কৃতিক কূটনীতি, সৃজনশীল অর্থনীতি এবং জাতীয় পরিচয় শক্তিশালী করার একটি কার্যকর মাধ্যম। ফলে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে দেশের সাংস্কৃতিক ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

লোকসংস্কৃতির উৎপত্তি মূলত প্রাচীন গ্রামীণ সমাজে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এটি মুখে মুখে, আচরণে এবং সামাজিক অনুশীলনের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়েছে। প্রাচীন আর্য যুগ থেকে শুরু করে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপন, কৃষিকাজ, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং সামাজিক অভিজ্ঞতা গল্প, গান, প্রবাদ ও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।

'কুটির শিল্প',  বাংলার নান্দনিক ঐতিহ্য

বাংলার লোকসংস্কৃতি বহুমাত্রিক ও সমৃদ্ধ। এর গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে-

ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া ও লালনগীতির মতো লোকগান;

ঠাকুরমার ঝুলি, রূপকথা ও প্রবাদ-প্রবচনের মতো লোককথা;

যাত্রাপালা, গম্ভীরা ও লাঠিখেলার মতো লোকনৃত্য ও নাট্যধারা;

নববর্ষ, নবান্ন ও পৌষপার্বণের মতো সামাজিক উৎসব;

এবং নকশিকাঁথা, মৃৎশিল্প, পাট ও বাঁশের কাজের মতো লোকশিল্প।

এসব উপাদান সম্মিলিতভাবে গ্রামীণ জীবন, ঋতুচক্র এবং সামাজিক সম্পর্কের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরে।

বাংলাদেশের বিনোদন ঐতিহ্যের প্রতীক- বায়োস্কোপ