জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সাংসদ, নুরুল ইসলাম মনি তরুণ প্রজন্ম তথা জাতীয় দক্ষতা উন্নয়নকল্পে তার বৃহৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। বেসরকারি টেলিভিশন, চ্যানেল আই- এর অনুষ্ঠান "ভিন্নমতে সহমত”- কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই পরিকল্পনা ও তার প্রয়োগিক ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত বলেন।
তরুণ প্রজন্ম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নতিকল্পে তার এবং সরকারের ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তরুণদের দক্ষ হিসেবে তৈরি করতে চাই। প্রযুক্তির যুগে প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে চাই। পাশাপাশি, যে মানুষ যে কাজে পারদর্শী তাকে সে কাজে লাগাতে চাই।
যে ওয়েল্ডিং জানে তাকে সেই কাজে লাগাবো, যে কৃষি কাজ চায় তাকে কৃষি কাজে দক্ষ করে তুলবো, যে মাছ চাষ করতে পারে, তাকে মাছ চাষে দক্ষ করে তুলবো, যে ফুড প্রসেস করতে পারে তাকে এটাতেই দক্ষ করবো। অর্থাৎ, যে যেখানে আগ্রহী তাকে সে কাজে দক্ষ করে তুলবো।
যেমন, জাপান-চায়নায় আবিষ্কৃত কমলালেবুর বিচি নাই, জিএম ( জেনেটিক্যালি মোডিফাইড) পদ্ধতিতে এটা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আমরা এরকম দক্ষ মানুষই বানাতে চাই, যে আক্ষরিকভাবেই কাজ শিখবে, কাজ জানবে এবং কাজ করবে।
আমরা শুধু ইনফরমেশন টেকনোলজি জানলাম আর শিখলাম, এটা কোনো কাজ না।
আমার প্লানটা হলো, সকল মানুষকে কর্মে যুক্ত রাখা এবং তরুণ প্রজন্মকে মূলত দক্ষ মানুষ হিসেবে তৈরি করা। যাকে যেই বিষয়ে সম্ভব দক্ষ করে তোলা। আর এই দক্ষ করে তুলতে যে সকল সাপোর্ট প্রয়োজন তা আমি রেডি করার প্রচেষ্টায় আছি।
একটা সময় আমরা ৮০% মানুষই না খেয়ে থাকার অবস্থায় ছিলাম, সেই পরিস্থিতি এখন আর নাই, আলহামদুল্লিহ। প্রায় সকল মানুষই কম-বেশি কাজ করছে।
এবং সবাই খুব বেশি ভালো আছি এমন বলবো না। তবে, মানুষজন এখন কাজ করতে পারে, তার আয়ের ব্যবস্থা আছে এবং খাওয়া-পড়া চালাতে পারে।
চীফ হুইফ হিসেবে জাতীয় দায়িত্ব ও নিজ আসনের প্রত্যাশা পূরণের ভিতর সমন্বয় কিভাবে করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রথমত আমার জাতীয় কাজ। কারণ, দেশ না থাকলে তো আমি নাই। দেশের অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা ঠিক না থাকলে আমার সরকার থাকবে না, কাজেই সরকার ঠিক রাখার জন্য আমার জাতীয় দায়িত্বের গুরুত্ব আগে।
আর এই জাতীয় দায়িত্ব পালন করতে যেয়ে এলাকার মানুষকে বঞ্চিত করার কোনো সুযোগ নেই। সেটা কেউই করে না। সুতরাং, এখানে থেকেও এলাকার মানুষের জন্য যা করা দরকার তা আমি করতেছি। যেমন, ইতোমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনেক উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন, সেগুলো নিয়মানুযায়ী হচ্ছে।