নিজের রাজনৈতিক পথচলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বিএনপির নেতা ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, তাঁর রাজনৈতিক জীবনে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি জানান, রাজনৈতিক জীবনে কোনো বাধা সৃষ্টি হলে খালেদা জিয়া নিজ উদ্যোগেই সেগুলোর সমাধান করে দিতেন।
বেসরকারি টেলিভিশন, ‘চ্যানেল আই’- এর অনুষ্ঠান, ‘ভিন্নমতে সহমত’- এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে, খালেদা জিয়ার দূরদর্শিতা ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, শামা ওবায়েদ ইসলাম।
খালেদা জিয়ার সঙ্গে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, ২০১২/২০১৩ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে দলীয় কর্মসূচিতে সারাদিন অংশ নেওয়ার পর পার্টি অফিসে গেলে, সেখান থেকে বের হওয়ার সময় খালেদা জিয়া তাঁকে ডেকে বলেন, ‘তুমি তো অনেক কাজ করতেছো, তুমি এখানে থাকো।’ তিনি উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়া অত্যন্ত সরল-স্বাভাবিক ছিলেন এবং প্রতিহিংসার রাজনীতির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, যা বর্তমান রাজনীতিতে বিরল।
তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়া সবসময় চেয়েছেন আমি যেন ভালো করি এবং নিজের এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে পারি। নিজের দায়িত্বের বাইরে গিয়েও খালেদা জিয়া তাঁকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন। এ কারণে তাঁর প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবেন বলে জানান তিনি।
একইসঙ্গে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আমার রাজনৈতিক জীবনে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তারেক রহমান তা সমাধান করে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন।
বিভিন্ন জনসমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়া স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে একজন আপসহীন নেত্রী হিসেবে সংগ্রাম করে দেশের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর সৃষ্ট সংকটময় সময়ে তিনি শুধু একটি দল নয়, পুরো বাংলাদেশের হাল ধরেছিলেন।
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া কেবল একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করেননি, বরং নারীর ক্ষমতায়নের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নারী শিক্ষার প্রসারে তাঁর দূরদর্শী পদক্ষেপ, নারীদের জন্য অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা ও বৃত্তি প্রবর্তন ছিল দেশের অগ্রগতির জন্য একটি সাহসী উদ্যোগ। তাঁর হাতে শুরু হওয়া এসব কার্যক্রম আজও অসংখ্য নারীর স্বপ্নপূরণের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার নারীর ক্ষমতায়ন, সমতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মেয়েদের জন্য অবৈতনিক স্নাতকোত্তর শিক্ষা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। অনলাইন হয়রানি, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, ধর্ষণ, নির্যাতন, এসিড সন্ত্রাস এবং নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
উল্লেখ্য, বিএনপির প্রভাবশালী সাবেক মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমান-এর উত্তরসূরি ও একমাত্র কন্যা শামা ওবায়েদ ইসলাম। কে এম ওবায়দুর রহমান দীর্ঘদিন বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০০৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর শামা ওবায়েদ সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন এবং নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
বিগত দুটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হতে পারেননি। ওই নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এবং তাঁর পুত্র শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরী।
পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খেলাফত মজলিস প্রার্থী মো. আকরাম আলী-কে বিপুল ভোটে পরাজিত করে তিনি বিজয়ী হন। এরপর বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।