রাজনীতি

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থী মাত্র ৪.২৪ ভাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা আশানুরূপ না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি। ৭১টি নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত এই প্ল্যাটফর্ম এক বিবৃতিতে বলেছে, আগামী নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ অত্যন্ত হতাশাজনক এবং এটি নারী-পুরুষের জনসংখ্যাগত বাস্তবতার সঙ্গে চরম বৈপরীত্যপূর্ণ।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়। এ সময় নির্বাচন কমিশনের কাছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর জবাবদিহি দাবি করা হয়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ২ হাজার ৫৬৮ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ১০৯ জন নারী, যা মোট প্রার্থীর মাত্র ৪ দশমিক ২৪ শতাংশ। এ পরিসংখ্যান, ক্ষমতার কাঠামোতে নারীর প্রতিনিধিত্বের করুণ চিত্র তুলে ধরে।

সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি জানায়, অধিকাংশ রাজনৈতিক দল থেকে নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এমনকি যেসব রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে তাদের নেতৃত্বে ৪০ শতাংশ নারী থাকার দাবি করে, সেসব দল থেকেও কোনো নারী প্রার্থী মনোনয়ন না পাওয়াকে তারা বিস্ময়কর ও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নির্বাচনে অংশ নেওয়া ১০৯ জন নারী প্রার্থীর মধ্যে ৭২ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী এবং বাকি ৩৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এতে স্পষ্ট হয় যে, রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে নারীর প্রবেশ এখনও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে।

সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির মতে, প্রতিকূল রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশের প্রতিটি ধাপে লড়াই করেই নারীকে রাজনীতিতে টিকে থাকতে হয়। অর্থনীতি ও জাতীয় উন্নয়নে নারীর অবদান যতটা স্বীকৃতি পেয়েছে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ততটা গুরুত্ব পায়নি।

বিবৃতিতে বলা হয়, সমাজে বিদ্যমান নারী-বিদ্বেষী ও পুরুষতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির কারণে অনেক নারী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে শঙ্কা বোধ করছেন। অথচ ১৯৫২ সাল থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নারীর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ ও দৃশ্যমান, যা রাজনৈতিক দলগুলো বারবার কাজে লাগালেও নির্বাচনি রাজনীতিতে নারীর ন্যায্য অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেনি।

নির্বাচনি রাজনীতিতে নারীর দৃশ্যমান ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি সব রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তারা বলেছে, একটি গণতান্ত্রিক ও সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় নারীর সমঅংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

বিবৃতিতে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির পক্ষে স্বাক্ষর করেন ডা. ফওজিয়া মোসলেম, সভাপতি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।