সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নের তালিকায় ফাহমিদা হকের নাম দেখার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে আলোচনা। তিনি কখনো বিএনপিতে কোনোভাবে যুক্ত ছিলেন কি না, তা নিয়ে যেমন উঠেছে প্রশ্ন; তেমনি তাঁর স্বামী টক শো উপস্থাপক জিল্লুর রহমানকে নিয়েও আলোচনা কম হচ্ছে না।
এই প্রতিক্রিয়ার মধ্যে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জিল্লুর রহমান। ফাহমিদা হকের সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতার ক্ষেত্রগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি বলেন, স্ত্রীর কারণে পেশাগত কাজে তাঁর অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হবে না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে নিজেদের পাওয়া ৩৬টি আসনে মনোনীত ব্যক্তিদের নাম গতকাল সোমবার প্রকাশ করে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি।
তাতে ফাহমিদা হকের নাম দেখে আলোচনার পর আজ মঙ্গলবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান তৃতীয় মাত্রার উপস্থাপক ও সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের সভাপতি জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, অনেকেই তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিলেন বলে তিনি নিজের কথা জানানো প্রয়োজন মনে করছেন।
ফাহমিদার মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠার প্রেক্ষাপটে জিল্লুর রহমান বলেন, ‘ফাহমিদার জনসম্পৃক্ততা আজকের বিষয় নয়। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি লেখালেখি, সামাজিক উদ্যোগ এবং নীতিনির্ধারণসংক্রান্ত আলোচনায় যুক্ত আছেন।
‘তিনি দেশজুড়ে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, নানা সামাজিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন এবং তাঁর লেখার মাধ্যমে জনপরিসরের আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। এসব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই তাঁর রাজনীতি ও জনজীবনের প্রতি আগ্রহ ধীরে ধীরে বিকশিত হয়েছে।’
ফাহমিদা তাঁর দীর্ঘদিনের সামাজিক ও জনসম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতায় সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন বলে দাবি করেন জিল্লুর রহমান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ফাহমিদা বাংলাদেশের সংসদীয় কার্যক্রম ও গণতান্ত্রিক আলোচনায় ইতিবাচক অবদান রাখবেন।
স্ত্রী একটি দল থেকে সংসদ সদস্য হলে তাঁর পেশাগত কাজ বিঘ্নিত হবে না, এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আমার পেশাগত জীবন—একজন সাংবাদিক, কলামিস্ট, টক শো উপস্থাপক এবং একটি নীতি গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে দীর্ঘ কয়েক দশকের স্বাধীন পেশাগত কাজের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে। সেই পেশাগত দায়িত্ব ও অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।
‘ফাহমিদার নতুন দায়িত্ব পালনে আমি তার সাফল্য কামনা করি। আর আমার সাংবাদিকতা ও নীতি-আলোচনার ক্ষেত্রে যে স্বাধীনতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে এত দিন কাজ করেছি, সেই একই নীতিতে আমি আমার কাজ চালিয়ে যাব।’
দুজন এক সংসারের হলেও তাঁদের নিজ নিজ কাজে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না বলে মনে করেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রে একই পরিবারের মানুষ ভিন্ন ভিন্ন জনভূমিকা পালন করতে পারেন, কিন্তু পেশাগত সততা সব সময় স্বাধীন থাকতে হবে।’