সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজয়কে জনগণের আস্থা ও দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন, নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য, রফিকুল ইসলাম হিলালী। তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরপরই জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর তাগিদ থেকেই তিনি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন এবং এই বিজয়ের মুহূর্তে প্রয়াত বাবা-মায়ের কথা গভীরভাবে স্মরণ করেছেন।
তিনি জানান, এই অর্জন শুধু রাজনৈতিক সাফল্য নয়, বরং একটি আবেগঘন মুহূর্তও বটে। “মনে হয়েছে, যদি বাবা-মা আজ বেঁচে থাকতেন, তারা এই দিনের জন্য অনেকদিন অপেক্ষা করেছেন,”। এ কারণে কৃতজ্ঞচিত্তে তিনি তাদের কবর জিয়ারত করেন।
জনগণের ভালোবাসা ও আস্থার প্রসঙ্গে এমপি হিলালী বলেন, মানুষের অকৃত্রিম সমর্থনই তাঁর শক্তি। তিনি দাবি করেন, তাঁর প্রতি মানুষের যে আস্থা রয়েছে, তা এমন পর্যায়ের যে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও জনগণ তাঁর পাশে থাকতো। তবে একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে তাঁর পরিবারকে অন্যায় আচরণের শিকার হতে হয়েছে, যা একটি সভ্য সমাজে কাম্য নয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধী দল নির্বিশেষে সকল রাজনৈতিক নেতাকর্মীর পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করা উচিত। তাঁর মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিগত বা পারিবারিক পর্যায়ে হয়রানি গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।
রাজনৈতিক সহনশীলতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তাঁদের দলের নেতা-কর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর কারও সম্পত্তিতে হামলার ঘটনা ঘটেনি। “আমরা চেষ্টা করেছি, তারা যা করেছে, আমরা যেন তা না করি,”।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সহনশীলতা বাড়ানোর বার্তা বহন করে।
নিজ এলাকার সঙ্গে গভীর সম্পৃক্ততার কথাও তুলে ধরেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, তিনি নিজ এলাকায় বসবাস করেন এবং তাঁর ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা পারিবারিকভাবে পরিচালিত হয়। স্থানীয় বাস্তবতা ও মানুষের সমস্যার সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এমপি হিলালী আরও বলেন, তাঁর কাছে নির্বাচনী এলাকার সমস্যা মানেই জাতীয় সমস্যা। “আমি যখন আমার এলাকার কথা বলি, তা জাতীয়ভাবেই বলা হয়,”- এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় উন্নয়নকে জাতীয় অগ্রগতির অংশ হিসেবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী দশ বছরে তাঁর নির্বাচনী এলাকাকে একটি উন্নত ও বাসযোগ্য অঞ্চলে রূপান্তর করা সম্ভব। অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও সুন্দর, পরিকল্পিত ও আধুনিক এলাকা গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন তিনি। অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জনসেবামূলক কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে সেই লক্ষ্য অর্জনের কথাও উল্লেখ করেন।
সার্বিকভাবে, এমপি রফিকুল ইসলাম হিলালীর বক্তব্যে একদিকে যেমন ব্যক্তিগত আবেগ ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার প্রতিফলন রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে সহনশীল রাজনীতি ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার বার্তা, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।