আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির অলিখিত চুক্তির কারণে দাগি আসামিরা জামিন পাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম।
আজ রোববার দুপুরে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে মত বিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সংসদে বাতিল হয়ে যাওয়া ২০টি অধ্যাদেশ কণ্ঠভোটে পাস হওয়া ১১৩টি অধ্যাদেশের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে সারজিস বলেন, ‘অভ্যুত্থানের আগে ও পরে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান কিংবা তাদের নির্যাতিত নেতাকর্মীরা বাংলাদেশের যে সংস্কারগুলো চাইতো, যে প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্বারা তারা জুলুমের শিকার হয়েছিল, যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারা স্বাধীন-সার্বভৌমভাবে চলার আকাঙ্ক্ষা ঘোষণ করেছিল; তারা ক্ষমতায় আসতে না আসতে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার তাদের মতো করে চালাতে চায়।’
‘ওই প্রতিষ্ঠানে আবার সরকারি দলের ছড়ি ঘুরাতে চায়, এ কারণেই তারা গুম অধ্যাদেশ বাতিল করেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল করেছে, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল করেছে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অধ্যাদেশ বাতিল করেছে,’ অভিযোগ করেন তিনি।
‘দুঃখজনক হলেও এটাই সত্য যে, বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে আওয়ামী লীগের ভোটের মাধ্যমে’ দাবি করে সারজিস বলেন, ‘তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের একটা অলিখিত চুক্তি ছিল। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা, এমনকি শেখ হাসিনা পর্যন্ত দেশের বাইরে বসে এখন এই কথাগুলো বলেন।’
‘নতুন সরকার গঠন করার পরে আমরা দেখতে পেলাম, সেই অলিখিত চুক্তির কারণে অভ্যুত্থানের সময় যারা জুলাই যোদ্ধাদের ওপর আক্রমণ করেছিল, যারা আমাদের শহীদ ভাইদের হত্যার জন্য দায়ী, তাদের অনেক দাগি আসামি এখন জামিন পেয়ে যাচ্ছে,’ বলেন সারজিস।
তিনি আরও বলেন, ‘আহত যোদ্ধাদের ওপরে ঢাকা শহর থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় যারা হুমকি দিয়েছিল, আক্রমণ করেছিল, লাঠি দিয়ে পিটিয়েছিল, তারা এখন আবার ওই একই জায়গায় বুক ফুলিয়ে বেড়াচ্ছে এবং আমার আহত যোদ্ধা আর শহীদ পরিবারদেরকে বলছে যে, “তোদের সময় শেষ হয়ে এসেছে। আমরা ফিরে এসেছি দেখব তোরা কী করতে পারিস!”—এ রকম হুমকির মধ্য দিয়ে আমার শহীদ পরিবাররা যাচ্ছে, আমার জুলাই যোদ্ধারা যাচ্ছে।’
বিএনপির উদ্দেশে ১১ দলীয় ঐক্যের এই নেতা বলেন, ‘আপনারা যদি মনে করেন যে বিরোধী দলের কবর খুঁড়বেন, আবার নিজেরা সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটবেন, তাহলে মনে রাখবেন, ওই কবরে আপনাদের জায়গাটা হবে সবার আগে।’
সরকারি দল শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের বিভিন্ন আশা দেখাচ্ছে, লোভ দেখাচ্ছে দাবি করে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘দয়া করে এগুলোর বিনিময়ে বিভাজিত হয়ে সামগ্রিকভাবে আপনাদের আকাঙ্ক্ষাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবেন না। কারণ এই আকাঙ্ক্ষা যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আপনিও বাংলাদেশের অংশ—আপনিও এটা (ক্ষতিগ্রস্ত) হবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আপনাদের কোনো দলের ব্যানারে দেখতে চাই না। আমরা চাই, যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আপনাদের পরিবারের মানুষগুলো জীবন দিয়েছে, আপনারা ওই আকাঙ্ক্ষার পক্ষে থাকুন। যদি আমরা এর পক্ষে কথা বলি, তাহলে আমাদের পক্ষে কথা বলতে পারেন। যদি আমরা বিপক্ষে কথা বলি, তাহলে প্রয়োজনে আমাদের বিপক্ষে কথা বলবেন।’