“ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার; প্রত্যাবর্তন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।”

 
রাজনীতি

তবে কি সত্যিই ডিসেম্বরেই শেখ হাসিনা ফিরছেন?

প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা; আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ, বিএনপি সরকারের অবস্থান ও দেশের রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বাড়ছে কৌতূহল

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা। আগামী ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরবেন বলে আবারও জানিয়েছেন তিনি। তবে তাঁর এই ঘোষণার পরও প্রত্যাবর্তনের নির্দিষ্ট তারিখ, যাত্রাপথ এবং দেশে ফিরে কীভাবে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত তথ্য সামনে আসেনি।

১৯ অক্টোবর ২০২৬, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর ইউএস-বাংলাদেশ রিলেশনসের একটি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরেই দেশে ফেরার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার, নির্যাতন কিংবা মৃত্যুর ঝুঁকি থাকতে পারে—এমন আশঙ্কা তাঁর রয়েছে। তারপরও দেশে ফেরাকে নিজের দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে জুলাই মাসে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। সে সময় তিনি নিজের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথাও বলেন।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে এখন বড় প্রশ্ন—এটি কি কেবল রাজনৈতিক অবস্থান জোরালো করার কৌশল, নাকি সত্যিই দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন শেখ হাসিনা? আর তিনি ফিরলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে?

ডিসেম্বরের ঘোষণা: রাজনৈতিক বার্তা, নাকি বাস্তব প্রস্তুতি?

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা নতুন নয়। এর আগে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারেও তিনি দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। কিন্তু এবার ডিসেম্বরকে সম্ভাব্য সময়সীমা হিসেবে উল্লেখ করায় বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা তিনি জানিয়েছেন। তবে ফেরার নির্দিষ্ট দিন বা বাস্তব প্রস্তুতির বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি।

অন্যদিকে, প্রথম আলোর বিশ্লেষণে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দুর্বলতা, নেতাকর্মীদের অনিশ্চয়তা এবং ঘোষিত সময়সীমা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দলটির অনেক নেতা-কর্মী দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, আবার অনেকে দেশে মামলা ও গ্রেপ্তারের আশঙ্কার মধ্যে রয়েছেন।

এ অবস্থায় ডিসেম্বরের ঘোষণা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মনোবল বাড়ানো, দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জোরালো করা কিংবা দেশের রাজনীতিতে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার কৌশলও হতে পারে।

তবে রাজনৈতিক বার্তা ও বাস্তব প্রত্যাবর্তনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। দেশে ফেরার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি, আইনি পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত ডিসেম্বরেই তাঁর প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কোন পথে?

শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে রয়েছে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির সাংগঠনিক কাঠামো বড় ধরনের সংকটে পড়ে। শেখ হাসিনা ভারতে চলে যাওয়ার পর দলের শীর্ষ পর্যায়ের বহু নেতা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন; অনেক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর দলটির প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সীমিত হয়ে পড়ে। ফলে দলটির ভবিষ্যৎ এখন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে।

প্রথমত, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন করে সক্রিয়তা তৈরি হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় বা আত্মগোপনে থাকা নেতা-কর্মীদের একটি অংশ সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।

দ্বিতীয়ত, তাঁর প্রত্যাবর্তন দলটির নেতৃত্ব ও কৌশল নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। আওয়ামী লীগ কি শেখ হাসিনাকেন্দ্রিক নেতৃত্ব বজায় রাখবে, নাকি নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে রাজনৈতিক পুনর্গঠনের চেষ্টা করবে—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

তৃতীয়ত, দলটির কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে দেশে ফিরে শেখ হাসিনার পক্ষে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা কঠিন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দলটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে আইনি প্রক্রিয়া, নিষেধাজ্ঞার অবস্থান এবং রাজনৈতিক পরিসর পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনার ওপর।

তবে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন মানেই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনরুত্থান—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। ২০২৪ সালের আন্দোলনে প্রাণহানি, ক্ষমতাকালীন শাসনব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক এবং দলটির প্রতি জনসমর্থনের বর্তমান অবস্থা—এসব প্রশ্নেরও জবাব দিতে হবে আওয়ামী লীগকে।

শেখ হাসিনা ফিরলে বিএনপি সরকারের অবস্থান কী হতে পারে?

শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বাংলাদেশের বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থানকে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি আইনি বাস্তবতার আলোকে বিবেচনা করতে হবে।

২০২৬ সালের মে মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, বিদ্যমান আইনি প্রক্রিয়া ও প্রত্যর্পণ ব্যবস্থার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকার আগ্রহী। অর্থাৎ, সরকারের প্রকাশিত অবস্থান তাঁকে রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে দায়মুক্তি দিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনার চেয়ে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনার দিকেই ইঙ্গিত করে।

শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলা, আদালতের রায় এবং গ্রেপ্তারসংক্রান্ত আইনি ব্যবস্থা সামনে আসতে পারে। ফলে প্রত্যাবর্তনের পরপরই তাঁকে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে দেখা যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

সরকারের জন্যও পরিস্থিতিটি হবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে সংবেদনশীল। একদিকে, আইন প্রয়োগ ও আদালতের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার প্রশ্ন থাকবে; অন্যদিকে, তাঁকে ঘিরে সম্ভাব্য জনসমাগম, বিক্ষোভ, পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে।

সরকার যদি আইন অনুযায়ী স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, তাহলে রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যেও আইনের শাসনের প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে পারবে। বিপরীতে, কোনো পদক্ষেপকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখার সুযোগ তৈরি হলে সরকারের ওপর দেশি-বিদেশি চাপ বাড়তে পারে।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিএনপি সরকারের রাজনৈতিক স্বার্থ যা-ই হোক না কেন, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ও তাঁর বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার নিষ্পত্তি আদালত, প্রচলিত আইন এবং প্রযোজ্য সাংবিধানিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই হওয়ার কথা।

আদালতের রায় ও আইনি জটিলতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রশ্নে সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি হলো তাঁর বিরুদ্ধে চলমান ও নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলোর আইনি অবস্থান।

২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। শেখ হাসিনা এই বিচারপ্রক্রিয়া ও রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাঁকে ভারত থেকে প্রত্যর্পণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তবে ভারত থেকে তাঁকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত ও বাংলাদেশে তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন—দুটি পৃথক বিষয়।

তিনি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরলেও আদালতের রায়, গ্রেপ্তারসংক্রান্ত ব্যবস্থা এবং অন্যান্য মামলার আইনি প্রভাব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে কি না, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট আইন ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর।

একই সঙ্গে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের বিচার, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ, যথাযথ আইনি প্রতিনিধিত্ব এবং ন্যায়সংগত বিচারপ্রক্রিয়া—সব পক্ষের ক্ষেত্রেই এসব নীতি প্রযোজ্য হওয়া প্রয়োজন।

দেশে ফিরলে রাজনীতিতে কী পরিবর্তন আসতে পারে?

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একাধিক ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সেই প্রভাব ইতিবাচক না নেতিবাচক হবে, তা নির্ভর করবে প্রত্যাবর্তনের ধরন, সরকারের প্রতিক্রিয়া এবং রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণের ওপর।

১. রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়তে পারে

শেখ হাসিনার সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভাজন রয়েছে। তাঁর দেশে ফেরা একদিকে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করতে পারে, অন্যদিকে বিরোধী দল ও ২০২৪ সালের আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

২. আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে পরিবর্তন আসতে পারে

শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে দলটির নেতৃত্ব, সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হতে পারে। তবে কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও আইনি সীমাবদ্ধতা বহাল থাকলে তাঁর উপস্থিতি সত্ত্বেও দলটির প্রকাশ্য রাজনৈতিক তৎপরতা সীমিত থাকতে পারে।

৩. বিএনপি সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ঘিরে সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাঁকে কীভাবে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়া হবে, সম্ভাব্য সমাবেশ ও বিক্ষোভ কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং রাজনৈতিক অধিকার ও জননিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা হবে—এসব বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।

৪. ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে

শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করায় তাঁর প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কের সঙ্গেও যুক্ত। প্রত্যর্পণ, দ্বিপক্ষীয় আলোচনা এবং সীমান্ত ও আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন গুরুত্ব পেতে পারে।

৫. গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্ন সামনে আসতে পারে

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, দলটির কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা, বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর অধিকার—সবকিছুই নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য আইনের শাসন, জবাবদিহি এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক অংশগ্রহণের পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

জনমত কি শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন মেনে নেবে?

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য থাকলেও বাংলাদেশের জনমতকে এককভাবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই। আওয়ামী লীগের সমর্থকদের একটি অংশ তাঁর প্রত্যাবর্তনকে রাজনৈতিক পুনরুজ্জীবনের সম্ভাবনা হিসেবে দেখতে পারেন। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের আন্দোলনে প্রাণহানি ও ক্ষমতাকালীন মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ মানুষের একটি অংশ তাঁর প্রত্যাবর্তনের বিরোধিতা করতে পারেন।

এ ছাড়া সাধারণ মানুষের কাছে দ্রব্যমূল্য, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক যতই বাড়ুক, তা দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকবে না।

আওয়ামী লীগ যদি ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে চায়, তাহলে শুধু নেতৃত্বের প্রত্যাবর্তন নয়, অতীতের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, জবাবদিহি এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের প্রশ্নেও অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।

অন্যদিকে, বিএনপি সরকারের জন্যও চ্যালেঞ্জ থাকবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করার পাশাপাশি আইনের শাসন, নাগরিক অধিকার এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।

শেষ পর্যন্ত কী হতে পারে?

শেখ হাসিনার ডিসেম্বরের ঘোষণা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। কিন্তু ঘোষণার বাস্তবায়ন এখনো নিশ্চিত নয়। নির্দিষ্ট তারিখ, দেশে ফেরার পদ্ধতি, আইনি পদক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন হিসেবেই দেখা যুক্তিযুক্ত।

তিনি সত্যিই দেশে ফিরলে সেটি কেবল একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাবর্তন হবে না; বরং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ, বিএনপি সরকারের রাজনৈতিক কৌশল, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার জন্যও বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

তবে দেশের স্থিতিশীলতা নির্ভর করবে রাজনৈতিক দলগুলো কতটা সংযম দেখায়, সরকার কতটা স্বচ্ছভাবে আইন প্রয়োগ করে এবং সব পক্ষ কতটা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে, তার ওপর।

সুতরাং, প্রশ্নটি শুধু শেখ হাসিনা ডিসেম্বরেই ফিরছেন কি না—তা নয়; বরং তিনি ফিরলে বাংলাদেশের রাজনীতি কোন পথে এগোবে এবং সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাষ্ট্র কতটা প্রস্তুত, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।