রাজনীতি

রাজনীতিতে ফেরার ছক: ভারতে অবস্থানরত নির্বাসিত আওয়ামী লীগ নেতারা-planning political comeback

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে আগামী তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভারতে নির্বাসিত অবস্থায় থাকা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে—এমন খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় গুঞ্জনের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়েছে। প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান সহ একাধিক সংবাদ প্রকাশ করেছে যে, ভারতীয় বিভিন্ন শহরে আশ্রয় নেওয়া রাজনৈতিক নেতারা দেশে ফেরার এবং রাজনীতিতে আবার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ছক কষছেন

ভারতে নির্বাসিত অবস্থান

গবেষণা ও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের বড় রাজনৈতিক উত্তাল পরিস্থিতি এবং বিপ্লবী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের কট্টর শীর্ষ নেতারা বাংলাদেশ ছেড়ে প্রতিবেশী ভারতেও আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লির নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন এবং দলের নেতাকর্মীদের সাথে ভার্চুয়াল ও বৈঠকি যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।

এই নেতারা রাজনৈতিকভাবে পলের মত পলাতক হিসেবে বাংলাদেশে বিবেচিত—যাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, হত্যা, রাষ্ট্রদ্রোহ এবং দুর্নীতিসহ বিভিন্ন মামলায় অভিযোগ উঠেছে। তবু তাঁরা ভারতে বসে দেশে ফিরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে সংবাদগুলো জানাচ্ছে।

রাজনীতিতে ফিরে আসার পরিকল্পনা

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে যে নির্বাসিত নেতা-কর্মীরা ঢাকায় নির্বাচনের দিন ও পরিস্থিতি অনুসরণ করে তারা রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার উপায় খুঁজছেন এবং তাদের মনে বর্তমান নির্বাচনকে একটি সুযোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

এ সময় তারা কলকাতা, দিল্লি ও অন্যান্য শহরে দলীয় সমন্বয়ের জন্য বৈঠক করছেন, ফোনে কর্মী ও সমর্থকদের সাথে স্ট্রাটেজি আলোচনা করছেন এবং ক্ষমতাবর্হিভূত সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর বিরুদ্ধে সমালোচনা করছেন—কথা তাঁদের সহকর্মীরা জানাচ্ছেন।

এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাসিত অবস্থায় থাকা এই নেতা-কর্মীরা সেখানো আশাবাদী যে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ যদি নির্বাচনী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়, তবে তারা আবার রাজনৈতিকভাবে ফিরে আসতে সক্ষম হবেন

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ

এই পরিস্থিতি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সেনসিটিভ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা ভারতের ভূমিকা নিয়ে নানা মন্তব্য করছে—বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে ভারতীয় ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করছেন নেতারা।

একসময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি স্বীকার করেছিলেন যে কিছু আওয়ামী লীগ নেতা ও কর্মী কলকাতায় অবস্থান করছেন, আর তাঁদের ঘোষিত অতিথি হিসেবে রাখা হয়েছে—যা রাজনৈতিক দিক থেকে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্বাসিত রাজনৈতিক নেতাদের ভারতে থাকা ও রাজনীতির পরিকল্পনা নিয়ে আইনি, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। এটা শুধু দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং তা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু-নীতির ওপরও পরিবর্তনশীল চাপ তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যখন বাংলাদেশে বর্তমান সরকার জনগণের সামনে নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য ও অবাধ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে

এ ধরনের অবস্থায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা দেখছেন যে নির্বাসন ও নির্বাসনের পর রাজনৈতিক রোলব্যাক উত্তরেও আইনি ও মানবাধিকার বিষয়ে জটিলতা তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যখন নেতা-কর্মীরা দেশীয় আইনের দৃষ্টিতে পলাতক বা অভিযুক্ত বলে বিবেচিত।

শেষ কথা

ভারতে অবস্থানরত নির্বাসিত আওয়ামী লীগ নেতা ও কর্মীরা আবার রাজনীতিতে ফেরার পরিকল্পনা করছেন, এবং ২০২৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তা আরো জোরালো হয়েছে — এমনটাই আন্তর্জাতিক সংবাদ ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। তাঁদের পরিকল্পনা ও কার্যক্রম রাজনৈতিক, আইনি ও কূটনৈতিক জটিলতার মধ্যে এখনও আলোচনার ও বিতর্কের বিষয়।