সামাজিক সম্প্রীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন রোধ এবং অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল।
বেসরকারি টেলিভিশন, ‘চ্যানেল আই’- এর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘ভিন্নমতে সহমত’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজ আসনের সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে কথা বলেন এই সাংসদ। তিনি বলেন, উন্নয়ন বলতে কেবল রাস্তা-ঘাট বা অবকাঠামো নির্মাণকে বোঝায় না; বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা এবং মানবিক মূল্যবোধের বিকাশও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সংসদ সদস্যের মতে, বর্তমানে সামাজিক মূল্যবোধ বিকাশে প্রধান অন্তরায়, মাদক। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলের কিশোর ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকাসক্তির প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ করা গেলে অন্যান্য অনেক সামাজিক সমস্যার সমাধানও সহজ হয়ে আসবে। মাদক প্রতিরোধে পুলিশ প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা এবং স্থানীয় সুশীল সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানান রফিকুল ইসলাম জামাল। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, কোনো চাঁদাবাজ বা সন্ত্রাসীকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া হবে না। তার মতে, শুধু প্রশাসনের পক্ষে একটি এলাকা শান্ত রাখা সম্ভব নয়; এ ক্ষেত্রে জনগণেরও সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই উন্নয়ন প্রকল্প নির্ধারণ করা হচ্ছে। কোন রাস্তা আগে সংস্কার হবে, কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগে সহায়তা প্রয়োজন, এসব বিষয়ে স্থানীয় সংগঠন ও জনগণের পরামর্শকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
নদীবেষ্টিত রাজাপুর-কাঠালিয়া অঞ্চলের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে, নদীভাঙনের বিষয়টি তুলে ধরেন সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, প্রতি বছর অসংখ্য পরিবার নদীভাঙনের কারণে গৃহহীন হয়ে পড়ছে। অনেক পরিবার বারবার ঘর হারিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করতে বাধ্য হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নদী রক্ষা ও ভাঙন প্রতিরোধকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান তিনি।
স্বাস্থ্যসেবা খাতের সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেন, রফিকুল ইসলাম জামাল। বিশেষ করে গ্রামীণ হাসপাতালগুলোর অবকাঠামোগত দুর্বলতা, ডাক্তারদের আবাসন সংকট এবং চিকিৎসাসেবার ঘাটতি দূর করার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
এলাকার অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিদেশগামী কর্মীদের ভাষা ও কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।
রাজনৈতিক সহনশীলতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক। তবে রাজনৈতিক মতপার্থক্য যেন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, ব্যক্তি বা দলের স্বার্থের আগে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তার ভাষায়, “সবার আগে বাংলাদেশ”, এই চেতনা থেকেই উন্নয়ন, সুশাসন এবং সামাজিক সম্প্রীতির পথ তৈরি হবে।