নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা এবং হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ।
আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) আয়োজিত এই কর্মসূচি থেকে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতসহ ১০ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নূরুন্নিসা সিদ্দিকা। এসময় সরকারের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক ও জনপ্রতিনিধিরা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ভোগ করলেও সাধারণ মানুষের জানমালের সুরক্ষা দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে সম্প্রতি রামপুরায় এক শিশু ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর পুলিশ মামলা না নিয়ে উল্টো ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার যে পরামর্শ দিয়েছে, সে বিষয়ে গভীর ক্ষোভও প্রকাশ করেন তিনি।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নূরুন্নিসা সিদ্দিকা বলেন, মূলধারার গণমাধ্যম যখন সরকারপ্রধানের দৈনন্দিন সাধারণ কর্মকাণ্ড প্রচারে ব্যস্ত, তখন সারা দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের লোমহর্ষক চিত্রগুলো আড়ালে পড়ে থাকছে। তিনি সংবাদকর্মীদের চাটুকারিতা পরিহার করে দেশ ও জাতির কল্যাণে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান।
বিগত ৫ আগস্ট থেকে নির্বাচন পর্যন্ত ঘটা বিভিন্ন সহিংসতার পরিসংখ্যান টেনে মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকারি দলের প্রশ্রয়েই অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। এ সময় বর্তমান নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে একজন পুরুষ মন্ত্রী থাকায় বিষয়টিকে 'হাস্যকর' বলে মন্তব্য করেন বক্তারা। পাশপাশি, দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তথাকথিত নারীবাদী সংগঠনগুলোর নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
বিভাগীয় সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নি বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের নিন্দা জানিয়ে বলেন, আমরা বিচারহীনতার এই সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তন চাই। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক বিভাগীয় সেক্রেটারি স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর কাছে অপরাধীদের দ্রুত বিচারের সময়সীমা স্পষ্ট করার দাবি জানান।
কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগম ১০টি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা।
বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ এবং রাজনৈতিক পরিচয়ে অপরাধীদের সুরক্ষা দেওয়া বন্ধ করা।
মামলা নিতে গড়িমসি করা পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।
নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা।
উক্ত মানববন্ধনে ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণ শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক নারী কর্মী অংশ নেন। তারা অবিলম্বে এসব দাবি মেনে নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।