আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে আলোচনায় এসেছেন মিশু বিশ্বাস। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠিত জ্যাকসনভিল আয়রনম্যান প্রতিযোগিতায় ব্যক্তিগত সেরা সময় গড়ে নিজের বয়সভিত্তিক ক্যাটাগরিতে ১৭তম স্থান অর্জন করেছেন তিনি।
১৬ মে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় দুই হাজার অ্যাথলেট অংশ নেন। সেখানে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন মিশু। ১০ ঘণ্টা ৫১ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে রেস শেষ করেন তিনি, যা তার ক্যারিয়ারের নতুন পার্সোনাল বেস্ট।
আয়রনম্যানের ৩.৮ কিলোমিটার সাঁতার পর্ব শেষ করতে মিশুর সময় লাগে ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট। এরপর ১৮০ কিলোমিটার সাইক্লিং শেষ করেন ৫ ঘণ্টা ৩৫ মিনিটে। সবশেষে ৪২.২ কিলোমিটার ম্যারাথন সম্পন্ন করেন ৩ ঘণ্টা ৫০ মিনিটে।
চারমাস সাঁতার শিখে পাড়ি দিয়েছেন বাংলা চ্যানেল
তবে এবারের জ্যাকসনভিল আয়রনম্যান ছিল প্রতিযোগীদের জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ। প্রায় ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা ও উচ্চ আর্দ্রতার পাশাপাশি তীব্র হেডউইন্ড এবং ক্রসউইন্ড সাইক্লিং অংশকে কঠিন করে তোলে। অন্যদিকে ঢাল ও উঁচুনিচু পথে অনুষ্ঠিত ম্যারাথন রুটও অ্যাথলেটদের জন্য বাড়তি পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায়।
রেস শেষে প্রতিক্রিয়ায় মিশু বিশ্বাস বলেন, গত দুই বছর তার জন্য মানসিক ও আবেগগতভাবে কঠিন ছিল। একসময় তিনি সন্দেহেও ছিলেন, আদৌ আবার আয়রনম্যান প্রতিযোগিতায় ফিরতে পারবেন কি না। সেই জায়গা থেকে ফিরে এসে ব্যক্তিগত সেরা সময় গড়া এবং উত্তর আমেরিকার একটি প্রতিযোগিতায় বয়সভিত্তিক ক্যাটাগরিতে ১৭তম হওয়াকে তিনি নিজের জন্য বিশেষ অর্জন হিসেবে দেখছেন।
২০১৯ সালে, কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত একটি ম্যারাথনে তৃতীয় হন মিশু
আন্তর্জাতিক ট্রায়াথলন ও "সহনশীলতা-ভিত্তিক খেলাধুলা" অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন মিশু বিশ্বাস। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি দেশে এই সেক্টরকে জনপ্রিয় করতেও কাজ করছেন তিনি। সম্প্রতি, “আয়রনম্যান ইউ সার্টিফাইড কোচ” স্বীকৃতিও অর্জন করেছেন, যা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এছাড়াও তিনি, ২০২০ সাথে বাংলা চ্যানেল অতিক্রম করেন।
২০২১ সালে, তুরস্কে অনুষ্ঠিত আয়রনম্যান প্রতিযোগিতায় নির্ধারিত সময়ের প্রায় ২ ঘন্টা আগে সাঁতার, দৌড় ও সাইকেলিং শেষ করেন।
২০২২ সালে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আয়রনম্যান প্রতিযোগিতায় ১১তম স্থান অর্জন করেন মিশু।
তুরস্কে অনুষ্ঠিত আয়রনম্যান প্রতিযোগিতায়
মিশু বিশ্বাসের আরেকটি পরিচয় হলো, তিনি বাংলাদেশের একজন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার। ৩৩তম বিসিএসের কর্মকর্তা হিসেবে, ২০১৪ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন ‘আয়রনম্যান’ খ্যাত এই এ্যাথলেট।
মিশু বলেন, “পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক না কেন, বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার অনুভূতিই আমাকে সবসময় সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।”