ব্রেট লি, কার্টিস ক্যাম্ফার, রাবাদা, প্যাট কামিন্স, ক্রিস জর্ডানদের কাতারে এবার নাম লেখালেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের রোমারিও শেফার্ড। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবার হ্যাটট্রিকের দেখা পেলেন এই ক্যারিবীয় বোলার। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ইনিংসের ১৭ তম ওভারে বল করতে এসে পরপর তিন বলে ম্যাথিউ ক্রস, মাইকেল লেস্ক ও ওলিভার দাভিদসনকে আউট করে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন শেফার্ড। ওই ওভারের শেষ বলে আরও একটি উইকেট নিয়ে পূরণ করেন ফাইফার। আর তাতেই ১৪৭ রানে গুটিয়ে যায় স্কটিশরা। ৩৫ রানের জয়ে বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু করলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
২০২৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক হয়েছিল তিনটি। তার মধ্যে প্যাট কামিন্স একাই দুবার এই কীর্তি গড়েছিলেন। আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। আর যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন ইংল্যান্ডের ক্রিস জর্ডান।
২০২২ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছেন কার্তিক মিয়াপ্পান। ওই আসরেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েন আয়ারল্যান্ডের জস লিটল। তার আগের বছর কাগিসো রাবাদা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, শ্রীলঙ্কার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ও আয়ারল্যান্ডের কার্টিস ক্যাম্ফার নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন। আর ২০০৭ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন অস্ট্রেলিয়ার ব্রেট লি।
কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে টসে জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাটিং পাঠায় স্কটল্যান্ড। দুই ওপেনার ব্র্যান্ডন কিং ও শাই হোপ অবশ্য খেলতে থাকেন ধীরগতিতে। ২২ বলে ১৯ রান করা শাই হোপকে বোল্ড করে ৫০ বলে ৫৪ রানের এই জুটি ভাঙেন মাইকেল লেস্ক।
পরের ওভারেই ৩০ বলে ৩৫ রান করা ব্র্যান্ডন কিংকে সাজঘরে ফেরান ওলিভার ডেভিডসন। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৩৭ বলে ৮১ রান যোগ করেন রোভম্যান পাওয়েল ও হেটমায়ার। বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দ্রুততম ফিফটি করেন হেটমায়ার। ২০০৯ সালে ২৩ বলে হাফ-সেঞ্চুরি করা ক্রিস গেইলকে ছাড়িয়ে যান তিনি। আজ ২২ বলে ফিফটি করেন হেটমায়ার। শেষ পর্যন্ত তার ব্যাট থেকে আসে ৩৬ বলে ৬৪ রান। রোভম্যান পাওয়েল ও শেরফানে রাদারফোর্ড যথাক্রমে ১৪ বলে ২৪ ও ১৩ বলে ২৬ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮২ রানের সংগ্রহ পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
জবাব দিতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই মাইকেল জোনসের উইকেট হারায় স্কটল্যান্ড। পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারে ৩৮ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারায় তারা। এরপর চতুর্থ উইকেটে টম ব্রুচ ও বেরিংটনের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় স্কটিশরা। ৪৬ বলে ৭৮ রান যোগ করেন এই দুই ব্যাটার। দলীয় ১১৫ রানে অধিনায়ক রিচি বেরিংটনকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন জেসন হোল্ডার।
এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি স্কটল্যান্ড। এরপর ৩২ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারায় তারা। ১৭তম ওভারের দ্বিতীয় বল থেকে শেফার্ডের বিধ্বংসী বোলিং শুরু। ব্র্যান্ডন ম্যাকমুলেনকে ফিরিয়ে প্রথম উইকেট পাওয়া উইন্ডিজ পেসার হ্যাটট্রিকের পথ তৈরি করেন ম্যাথু ক্রসকে আউট করে। একে একে মাইকেল লেস্ক ও অলিভার ডেভিডসনকে আউট করে এই সংস্করণের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক করেন তিনি। এক বল বিরতি দিয়ে সাফিয়ান শরিফকে ফিরিয়ে চলতি বিশ্বকাপের প্রথম ফাইফারের দেখা পান শেফার্ড। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৫ উইকেটে ১৩৩ রান করা স্কটল্যান্ডের স্কোর দাঁড়ায় ১৩৩-৯।
১৯তম ওভারের পঞ্চম বলে মার্ক ওয়াটকে আউট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় নিশ্চিত করেন জ্যাসন হোল্ডার। ১৪৭ রানে অলআউট হয় স্কটল্যান্ড। ৩ ওভার ২০ রান খরচায় ৫ উইকেট নেন শেফার্ড। আর জেসন হোল্ডার নেন ৩ উইকেট।