অবৈধ শেভিং ব্লেডের কালোবাজার: সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব
বৈধ পথে আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকার পরও দেশের প্রতিটি অলিগলি ও পাইকারি বাজার এখন অবৈধ জিলেট শেভিং ব্লেডের দখলে। বহুজাতিক কোম্পানি পিঅ্যান্ডজি বাংলাদেশে জিলেট ব্লেডের ডিস্ট্রিবিউশন চুক্তি ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে বাতিল করার পর থেকেই চোরাকারবারিরা এই সুযোগটি লুফে নিয়েছে।
আর এই অবৈধ বাজারের আগ্রাসনে চরম হুমকিতে পড়েছে শার্প ব্লেড, চ্যাম্পিয়ন ব্লেড এবং ম্যাটাডোর বিদ্যুতের মতো দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য দেশি ব্র্যান্ডগুলো। গত ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে শার্প ব্লেড এবং এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চ্যাম্পিয়ন ব্লেড ভোক্তাদের চাহিদা মিটিয়ে আসছে। এই দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বৈধভাবে ট্যাক্স দিয়ে অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছেন। অথচ শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অত্যন্ত সস্তায় বাজারে আসা অবৈধ জিলেট শেভিং ব্লেডের কারণে এই সৎ ব্যবসায়ীরা আজ চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি।
বৈধ পথে আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকার পরও দেশের প্রতিটি অলিগলি ও পাইকারি বাজার এখন অবৈধ জিলেট শেভিং ব্লেডের দখলে।
সাম্প্রতিক কিছু অভিযানে এই চোরাচালানের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে:
বেনাপোল বন্দর: ২৩ অক্টোবর ২০২৫ সালে সময় টিভির খবরে প্রকাশ পায়, বেনাপোল স্থলবন্দরে 'স্টিল' আমদানির ভুয়া ঘোষণায় আনা কোটি টাকা মূল্যের ১১ লাখ পিস শেভিং ব্লেড উদ্ধার করে কাস্টমস।
সিলেট সীমান্ত: ২৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে সংবাদ সংস্থা বিএসএস এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিলেটের শ্রীপুর, মিনাটিলা ও সংলগ্ন এলাকায় বিজিবি ৪.৬৩ কোটি টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ করে, যেখানে জিলেট রেজার ও শেভিং ব্লেড উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ছিল।
প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব অবৈধ ব্যবসা চললেও তারা নীরব দর্শক হয়ে আছেন। এই সংঘবদ্ধ চক্রকে এখনই রুখতে না পারলে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো অচিরেই বাজার থেকে হারিয়ে যাবে।