

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান শুল্ক সুবিধার অপব্যবহার রোধে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, শুল্ক সুবিধা নিয়ে আমদানি করা পণ্য অনেক ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যবহারের পরিবর্তে বাসাবাড়িতে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা রাজস্ব ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবন সভাকক্ষে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি আজ মঙ্গলবার এসব কথা বলেন। সভায় এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘অনেকেই মনে করেন সৎভাবে ব্যবসা করা সম্ভব নয়। এ ধরনের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’
তিনি জানান, এইচএস কোডে অতিরিক্ত বিভাজন ও ভিন্ন ভিন্ন শুল্কহার নির্ধারণের ফলে অপব্যবহারের সুযোগ বাড়ে। বরং শুল্কহার যত সমজাতীয় রাখা যাবে, অপব্যবহার তত কমবে।
তিনি আরও বলেন, ‘বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে কম শুল্কে আমদানি করা পণ্য পরবর্তীতে বাসাবাড়িতে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’
আলোচনায় বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে এ এইচ ইলেকট্রিক কোম্পানির স্বত্বাধিকারী হারেস মোহাম্মদ বলেন, হাউজহোল্ড সুইচ-সকেটের সঙ্গে শিল্পে ব্যবহৃত লিমিট সুইচ বা সিলেক্টর সুইচকে একই এইচএস কোডে শুল্কায়ন করা বাস্তবসম্মত নয়।
মিস-ডিক্লারেশন একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন ‘পাঁচ বছর আগে মিস-ডিক্লারেশনের জন্য ২০০ থেকে ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা ছিল, কিন্তু বর্তমানে তা কার্যকরভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না।’
হারেস মোহাম্মদ বলেন, মিস-ডিক্লারেশন নিয়ন্ত্রণ করা গেলে আমদানি পর্যায়ে রাজস্ব আয় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে শুধু আমদানিকারকরাই নয়, সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষেরও ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রাক-বাজেট আলোচনায় বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে একাধিক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। বাংলাদেশ ইলেক্ট্রিক্যাল মার্চেন্ডাইজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম তৈরির কাঁচামালে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (আরডি) প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেয়।
এছাড়া বাংলাদেশ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রান্সফরমার্স অ্যান্ড সুইচগিয়ারস কাঁচামালের ওপর শুল্ক হ্রাসের সুপারিশ করে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্প্রসারণে কাস্টমস ডিউটি যৌক্তিকীকরণ, মূল্যায়ন পদ্ধতির সংস্কার এবং কর অবকাশ দেওয়ার প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ সাস্টেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ অ্যালুমিনিয়াম ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অ্যালুমিনিয়াম পণ্যে ভ্যাট অব্যাহতির দাবি জানায়। অ্যাকুমুলেটর ব্যাটারি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ফিনিশড ব্যাটারির ভ্যাট ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়।
এছাড়া, বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন দীর্ঘমেয়াদি কর অবকাশের দাবি জানায়। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি হাতে তৈরি বিস্কুট ও কেককে ২০১২ সালের মূসক আইনের ২৬ ধারার আওতায় অব্যাহতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানায়।