

চলতি বছরের নভেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রস্তুতি দুর্বল, কারণ একাধিক অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
আজ রোববার প্রকাশিত জাতিসংঘের এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়েছে।
জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশ, ভূবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ ও উন্নয়নশীল ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর (ইউএন-ওএইচআরএলএলএস) উচ্চ প্রতিনিধির কার্যালয়ের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের প্রস্তুত করা ‘গ্র্যাজুয়েশন রেডিনেস অ্যাসেসমেন্ট’ প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ উত্তরণের সব শর্ত পূরণ করলেও উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি রয়ে গেছে।
এর মধ্যে রয়েছে—বাণিজ্য সুবিধা হারানোর ঝুঁকি, সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ, রাজস্ব ও আর্থিক খাতের দুর্বলতা, জলবায়ু ঝুঁকি ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের ঘাটতি।
মসৃণ ও টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত করতে সংস্কার, বাস্তবায়ন সক্ষমতা জোরদার, পর্যাপ্ত নীতিগত পরিসর এবং সামগ্রিক সমাজভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজনীয়তার কথা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
তিনটি নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করায় আগামী ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশের উত্তরণের কথা নির্ধারিত রয়েছে।
তবে গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার রপ্তানি আদেশ হারানোর সম্ভাবনা ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক দুর্বলতা নিয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে ইউএন-ওএইচআরএলএলএসের কাছে একটি স্বাধীন মূল্যায়ন চেয়েছিল।
বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতার কথা উল্লেখ করে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) কাছে উত্তরণ তিন বছর পিছিয়ে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত নেওয়ার আবেদন করে। সিডিপি এ আবেদন মূল্যায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউএন-ওএইচআরএলএলএস সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত, সুশীল সমাজ, উন্নয়ন সহযোগী ও জাতিসংঘ ব্যবস্থার সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে এ মূল্যায়ন পরিচালনা করে।
প্রতিবেদনটিতে উত্তরণ ব্যবস্থাপনায় দেশের প্রস্তুতি নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে এলডিসি-নির্দিষ্ট সহায়তা প্রত্যাহারের প্রভাব ও উন্নয়ন অর্জন ধরে রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ইউএন-ওএইচআরএলএলএসের পরামর্শক মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক ও ড্যানিয়েল গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও ইউএন-ওএইচআরএলএলএসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় বহু-অংশীজন পরামর্শ সভায় এই ফলাফল তুলে ধরা হয়।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন মন্ত্রী, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী নেতা, শিক্ষাবিদ ও সরকারি উপদেষ্টারা।