

দেশের শিল্পায়নকে টেকসই করতে হলে সর্বপ্রথম নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। শিল্পখাতের জন্য ‘স্টেডি পাওয়ার’ বা স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ অপরিহার্য। গ্যাস সংকট দীর্ঘদিন ধরে বড় সমস্যা হিসেবে থাকলেও এখন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাই প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। কারণ বিদ্যুৎভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থার ওপরই শিল্পের মূল ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে।
বেসরকারি টেলিভিশন, ‘চ্যানেল আই’- এর জনপ্রিয় টকশো, ‘ভিন্নমতে সহমত’- এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে, দেশের শিল্পায়ন এবং ব্যাংকিং খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান, আব্দুল হাই সরকার।
তৈরি পোশাক খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশই আসে এই খাত থেকে। গার্মেন্টস শিল্পের সঙ্গে স্পিনিং, ডেনিমসহ বিভিন্ন ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প জড়িত। এসব খাত সচল না থাকলে পুরো অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি সতর্ক করে বলেন, গার্মেন্টস খাতে কোনো ধাক্কা লাগলে তা সরাসরি ব্যাংকিং খাত ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে জনশক্তির অভাব না থাকলেও কাঁচামালের ঘাটতি রয়েছে, যা আমদানি নির্ভর। তাই রপ্তানি ধরে রাখতে হলে উৎপাদন ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি এবং উপকরণের কার্যকারিতা বাড়াতে হবে।
ব্যাংকিং ব্যবস্থার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার ও শিল্পখাত পরস্পরের পরিপূরক। কার্যকর উন্নয়নের জন্য নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় জরুরি। এমন কোনো নীতি গ্রহণ করা উচিত নয়, যা বাস্তবায়নযোগ্য নয়। প্রাইভেট ব্যাংকগুলোকে সৎ ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালিত হতে দিতে হবে। পাশাপাশি দুর্বল ব্যাংকগুলোর জন্য আলাদা নীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন, যাতে সবল ব্যাংকগুলো ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
শিক্ষা ও শিল্পায়নের মধ্যে অসামঞ্জস্যতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনীয়তার মিল নেই। কারিগরি ও ব্যবস্থাপনাভিত্তিক দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বিশেষায়িত শিক্ষার অভাব দেশের উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে। দেশের শিল্প ব্যবস্থার সাথে শিক্ষা ব্যবস্থার সমন্বয়টা অতি জরুরী। তা নাহলে আমরা নতুনদেরকে দক্ষ হিসেবে পাইনা, ফলে আমরা নতুনদের চেয়ে অভিজ্ঞদের বেশি মূল্যায়ন করতে বাধ্য হই।
আব্দুল হাই আরও উল্লেখ করেন, শিল্পখাতকে ঘিরে পরিবহন, আইন-শৃঙ্খলা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই শিল্পায়নকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত ও স্থিতিশীল পরিবেশ গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ ।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গার্মেন্টস খাতকে সুরক্ষা দেওয়া এবং ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা গেলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবের