চলতি অর্থবছরে জিডিপি ৪.৬% করল বিশ্বব্যাংক; রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটলে পরের বছর ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত

চলতি অর্থবছরে জিডিপি ৪.৬% করল বিশ্বব্যাংক; রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটলে পরের বছর ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত
প্রকাশিত

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৪.৬ শতাংশ করেছে বিশ্বব্যাংক। এর আগে সংস্থাটি ৪.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল। তবে বিশ্বব্যাংক আশা করছে, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা হ্রাস ও সংস্কার কার্যক্রমের গতি বাড়লে আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৬.১ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

মঙ্গলবার ওয়াশিংটনভিত্তিক এই বৈশ্বিক ঋণদাতা সংস্থা তাদের সর্বশেষ গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত ভোগ বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমে আসার ফলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩.৭ শতাংশ হতে পারে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছিল। 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালের শুরুর দিকে সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে আসা এবং নতুন সরকারের অধীনে কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিল্প কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে। এসব কারণে সরকারি ব্যয় ও বিনিয়োগের গতিও আগের পূর্বাভাসের তুলনায় বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া বিশ্বব্যাংক জোর দিয়ে বলেছে, চলতি বছর নির্ধারিত নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার করতে পারে। এতে প্রবৃদ্ধি সহায়ক সংস্কার প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে অনুমানযোগ্যতা বাড়বে।

বিশ্বব্যাংকের এই সংশোধিত পূর্বাভাস অন্যান্য বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলোর পূর্বাভাসের সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায়। এর আগে জাতিসংঘ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪.৬ শতাংশ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৫.৪ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল।

অন্যদিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) তাদের সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর প্রতিবেদনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪.৯ শতাংশ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৫.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করেছে।

তবে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৫.৫ শতাংশ, যা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি।

দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবৃদ্ধি ধীর হবে

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রায় ৭.১ শতাংশ শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও ২০২৬ সালে তা কমে ৬.২ শতাংশ হতে পারে। এর মূল কারণ হিসেবে ভারতের রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ আমদানি শুল্কের প্রভাবকে দায়ী করা হয়েছে।

তবে বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কেটে গেলে ২০২৭ সালে এই অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ফের বেড়ে ৬.৫ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক সতর্ক করে বলেছে, এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার ক্ষেত্রে বেশ কিছু নেতিবাচক ঝুঁকি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য বিধিনিষেধ বৃদ্ধি, বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতিতে অব্যাহত অনিশ্চয়তা, আর্থিক দুর্বলতা বৃদ্ধির সঙ্গে কঠোর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘনঘন বা তীব্র হানা।

তবে বেশ কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে বলেও জানায় সংস্থাটি। যেমন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনায় সম্ভাব্য অগ্রগতি, প্রযুক্তিনির্ভর বিনিয়োগের দ্রুত প্রবৃদ্ধি এবং বিভিন্ন দেশে নির্বাচনের পর স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ থেকে প্রাপ্ত সম্ভাব্য সুফল।

এদিকে অব্যাহত বাণিজ্য ও নীতিগত অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও আগামী দুই বছর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকবে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালে এটি কিছুটা কমে ২.৬ শতাংশ হতে পারে, তবে ২০২৭ সালে তা বেড়ে ২.৭ শতাংশে পৌঁছাবে।

আরো পড়ুন

No stories found.
logo
The Metro TV | দ্য মেট্রো টিভি | The Metro TV Bangladesh | Bangla News Today | themetrotv.com |The Metro TV News
themetrotv.com