শিক্ষা ব্যবস্থাকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করার কাজ চলছে: ববি হাজ্জাজ

শিক্ষা ব্যবস্থাকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করার কাজ চলছে: ববি হাজ্জাজ
প্রকাশিত

দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে চায় সরকার, যেখানে অভিভাবকরা আস্থার সঙ্গে তাদের সন্তানদের ভর্তি করাতে আগ্রহী হবেন।

বেসরকারি টেলিভিশন, ‘চ্যানেল আই’- এর জনপ্রিয় টকশো ‘চলতি হাওয়া’-তে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে পাঠ্যক্রম, মূল্যায়ন পদ্ধতি ও শিক্ষার মান নিয়ে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

তবে, পাঠ্যক্রম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আগের মতো আকস্মিক সিদ্ধান্ত না নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রস্তুতির বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হবে। কোনো নতুন কারিকুলাম কার্যকরের অন্তত এক বছর আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং নতুন পাঠ্যপুস্তক ও মূল্যায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে আগাম ধারণা দেওয়া হবে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমানে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম, কিন্ডারগার্টেন ও মাদ্রাসা শিক্ষার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বৈষম্য রয়েছে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় এসব ধারার মধ্যে একটি যৌক্তিক সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা ভিন্ন ধারায় পড়াশোনা করলেও মৌলিক দক্ষতা ও শিক্ষার মানে বড় ধরনের পার্থক্য না থাকে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের কেবল পরীক্ষাভিত্তিক মূল্যায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শেখার ধারাবাহিক প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, ফলাফল ও পরীক্ষার অতিরিক্ত চাপ অনেক সময় শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আন্তর্জাতিকভাবে বর্তমানে ধারাবাহিক মূল্যায়ন এবং চূড়ান্ত মূল্যায়ন, উভয় পদ্ধতির সমন্বিত ব্যবহার বাড়ছে। বাংলাদেশেও এই দুই পদ্ধতির মধ্যে ভারসাম্য আনার প্রয়োজন রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ওপর অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষার চাপ কমাতে পারলে মানসিক চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাউন্সেলিংসহ প্রয়োজনীয় সহায়তামূলক সেবা চালুর বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সম্পর্ক নিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশে দক্ষতা ও কর্মবাজারের চাহিদার মধ্যে এখনও কিছু অমিল রয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত ও কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন জনশক্তির যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারি অর্থায়নে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারীদের জ্ঞান ও দক্ষতা যেন দেশের উন্নয়নে কাজে লাগে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ব্রেইন ড্রেইন বা মেধাপাচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উন্নত কর্মপরিবেশ, গবেষণার সুযোগ এবং দক্ষতার বিকাশের উপযুক্ত কাঠামো তৈরি করা গেলে দেশেই মেধাবীদের ধরে রাখা সম্ভব। এজন্য প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, পুষ্টিকর খাবার এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সেগুলো দেশব্যাপী বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কার্যক্রমকে প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ভিত্তিগত জ্ঞান শক্তিশালী করে মাধ্যমিক পর্যায়ে উন্নীত করার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, “আমরা পুরো কারিকুলাম ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে একটি বৈশ্বিক মানদণ্ডে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করছি। আমি আশাবাদী, আগামী দিনে এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে উঠবে, যেখানে অভিভাবকরা গর্বের সঙ্গে তাদের সন্তানদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠাবেন।”

logo
The Metro TV | দ্য মেট্রো টিভি | The Metro TV Bangladesh | Bangla News Today | themetrotv.com |The Metro TV News
themetrotv.com