

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির মৃত্যুর পর রাজধানীর ধানমণ্ডিতে সঙ্গীত বিদ্যায়তন ছায়ানট ভবনে আগুন-হামলা-ভাংচুরের ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।
বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) রাজধানীর ধানমণ্ডিতে ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ কার্যক্রমে তিনি একথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, এখানে কিছুদিন আগে একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে, যা জাতির জন্য কলঙ্কজনক। আমরা দেখেছি- সংবাদমাধ্যম আক্রান্ত হয়েছে, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আক্রান্ত হয়েছে, একজন সংখ্যালঘু নাগরিক আক্রান্ত হয়েছেন। এসব ঘটনা গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য হুমকিস্বরূপ। পরে ভবন মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ করেন তিনি। মিলনায়তনে যাওয়ার সময় ভবনের নিচতলায় রাখা ভাংচুরে ক্ষতিগ্রস্ত সংগীতসামগ্রী প্রত্যক্ষ করার কথাও তিনি বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
উপদেষ্টা বলেন, তবে আশার কথা হলো, এ দেশের শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ এসব ঘটনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। সুকুমারবৃত্তির চর্চা ও শিক্ষার অনুশীলন আপাতদৃষ্টিতে কোমল মনে হলেও, এগুলো মানুষকে এমনভাবে গড়ে তোলে, যাতে তারা সব ধরনের অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।
বই বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত অভিভাবকদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে একটি অভিভাবক নির্দেশিকা বই প্রস্তুত করা হচ্ছে, যা খুব শিগগিরই আপনাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। শিশুরা কীভাবে বড় হয়ে ওঠে, তাদের সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার জন্য অভিভাবকদের করণীয় বিষয়গুলো খুব সহজ ভাষায় ও চিত্রের মাধ্যমে সেখানে তুলে ধরা হয়েছে।
বই বিতরণ কার্যক্রমে বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান ও নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমনা বিশ্বাস।
প্রসঙ্গত, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির মৃত্যুর পরে সংগঠিত দুর্বৃত্তপনার অংশ হিসেবে গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে আগুন দেওয়া হয় ছায়ানট ভবনে। দুর্বৃত্তরা ছায়ানট ভবনে ঢুকে নানা কক্ষ ভাঙচুর করেছে। পাশাপাশি বাদ্যযন্ত্র পুড়িয়েছে, আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে।
ছায়ানটে হামলার প্রতিবাদে গত ২৩ ডিসেম্বর রাজধানীর ধানমণ্ডিতে ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবনের সামনে ‘গানে গানে সংহতি সমাবেশ’ আয়োজন করেছিল ছায়ানট। শত শত শিল্পী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সংস্কৃতি সমর্থক তাতে অংশ নেন। সংগীতের মাধ্যমে তারা সহিংসতার প্রতিবাদ জানায় এবং বাঙালি সংস্কৃতিচর্চার ওপর বীভৎস হামলা বন্ধের আহ্বান জানান। গানের সুরে শাস্তির দাবি ও শান্তিপূর্ণ সাংস্কৃতিক পরিবেশ রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয় ওই সমাবেশে।