

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার এখন আর শুধু দলীয় কর্মসূচি নয়, এটি জাতীয় অঙ্গীকার ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া।
বুধবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘নির্বাচনী ইশতেহার মতে বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহ শ্রমিকবান্ধব করার প্রক্রিয়া ও করণীয়’ শীর্ষক অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে উপস্থাপিত হওয়ায় বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছে। ফলে এটি আর দলীয় কর্মসূচি নয়, বরং রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে ইশতেহারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব বাস্তবায়ন করা এখন বাধ্যতামূলক।
তিনি জানান, নির্বাচনী ইশতেহারের অন্তত ২০টি বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পৃক্ত। এসব বিষয় বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, অনুবিভাগ, শাখা ও অধিশাখার মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একটি কর্মপরিকল্পনার খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে, যা মন্ত্রীর অনুমোদনের পর চূড়ান্ত করা হবে এবং পরে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে।
সিনিয়র সচিব বলেন, সরকারের ইশতেহার বাস্তবায়নে বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনগুলোকে আরও সক্রিয় হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। টেলিফোন ও ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শ্রমকল্যাণ উইংয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন- অর্থের চেয়ে মানুষের জীবনের মূল্য বেশি। তাই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিপদাপন্ন প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্ধার, চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো প্রবাসীর মৃত্যু হলে দ্রুত মরদেহ দেশে পাঠানোর নির্দেশনাও রয়েছে।
সচিব জানান, বিদেশে অনথিভুক্ত শ্রমিকদের নথিভুক্ত করা, বিপদাপন্ন শ্রমিকদের সহায়তা দেওয়া, মামলা-মোকদ্দমায় জড়িত শ্রমিকদের আইনি সহায়তা প্রদান, বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং অসুস্থ শ্রমিকদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিদেশস্থ মিশনের শ্রম উইংগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর অধীনে থাকা কল্যাণ কেন্দ্র ও সেফ হাউসগুলোকে আরও সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেসব মিশনে জনবলের ঘাটতি রয়েছে, সেখানে নতুন লোকবল নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মন্ত্রণালয় একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ চালু করেছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের হটলাইন নম্বর (+৮৮০৯৬১০১০২০৩০) চালু রয়েছে, যেখানে প্রবাসীদের স্বজনদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে দুইজন কর্মকর্তাকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।