

মজুদ স্থিতিশীল থাকায় আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১১তম বৈঠকে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার নোটিশের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের চিহ্নিত ১৮টি ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যেই গত ৫ এপ্রিল থেকে জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, "আগে ৩ মে থেকে সারাদেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরুর পরিকল্পনা ছিল। তবে ইউনিসেফ থেকে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন সংগ্রহ সম্ভব হওয়ায় তা দুই সপ্তাহ এগিয়ে আনা হয়েছে। এখন ২০ এপ্রিল থেকেই সারাদেশে টিকাদান শুরু হবে।"
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের ব্যর্থতা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ক্রয় প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণে সম্প্রতি ভ্যাকসিন সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ও ঘাটতি তৈরি হয়েছিল।
তিনি বলেন, "এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে অতীতে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ার কারণে। টিকা ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা রক্ষা হয়নি, যার পেছনে ব্যর্থতা ও অনিয়ম দায়ী।"
মন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার জরুরি আর্থিক ব্যবস্থা নিয়েছে। কোভিডকালীন এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মহামারি তহবিলের অব্যবহৃত ৬০৪ কোটি টাকা পুনর্বিন্যাস করে হাম-রুবেলাসহ জরুরি ভ্যাকসিন ক্রয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, "উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে—বিশেষ করে ইউনিসেফের ক্রয় ব্যবস্থার মাধ্যমে—সমন্বয় জোরদার করে দ্রুত ভ্যাকসিন সরবরাহ স্বাভাবিক করা হচ্ছে। এ কারণে সারাদেশে টিকাদান কর্মসূচি ১৫ দিন এগিয়ে আনা হয়েছে।"
মাঠপর্যায়ে উচ্চ সংক্রমণ এলাকায় ইতোমধ্যে ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনের জন্য গ্যাভির মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি ১৯ লাখ ডোজ টিকা পাওয়া গেছে।
মন্ত্রী বলেন, "হাম নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত টিকা মজুদ রয়েছে; টিকার কোনো ঘাটতি হবে না।"
তিনি আরও জানান, "ইউনিসেফের মাধ্যমে ৪১৯ কোটি টাকার ভ্যাকসিন ক্রয় প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ইপিআই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনা বজায় রেখে ভ্যাকসিন সংরক্ষণ ও পরিবহন নিশ্চিত করছে।"