
এ বছরের শুরুর দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ তীব্র করেন, তখন বেইজিং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেয়। ওই সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে একটি ব্যক্তিগত চিঠি পাঠান। যদিও বার্তাটি মূলত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশেই দেয়া।
সম্প্রতি ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভারতীয় কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, শি জিনপিংয়ের ওই চিঠি ছিল মূলত চীনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে ভারতের আগ্রহ যাচাইয়ের একটি পরীক্ষা। যদিও চিঠিটি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে পাঠানো হয়েছিল, বার্তাটি দ্রুতই পৌঁছে দেয়া হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওই চিঠিতে চীনা প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যা বেইজিংয়ের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এছাড়া চীনের প্রেসিডেন্ট চিঠিতে একজন প্রাদেশিক কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করেন, যিনি বেইজিংয়ের এই উদ্যোগ পরিচালনা করবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জুনের আগে মোদি প্রশাসন চীনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তবে আগস্ট থেকে বদলাতে শুরু করে চিত্র। ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কে অর্থনৈতিক চাপে পড়ে সীমান্ত বিরোধ মেটাতে সম্মত হয় ভারত ও চীন। এরই মধ্যে চীন সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মোদি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের শুল্কারোপে ক্ষতিগ্রস্ত ভারত ও চীন উভয়েই ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘাতের পরবর্তী উত্তেজনা পেছনে ফেলার উদ্যোগ জোরদার করতে সম্মত হয় এবং দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ নিয়ে নতুন করে আলোচনায় বসার উদ্যোগ নেয়।
এসব ঘটনার পর ভারত-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালু হওয়ার কথা। চীন ভারতের জন্য ইউরিয়া রফতানিতে আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। অন্যদিকে, ভারত দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর চীনা নাগরিকদের জন্য পর্যটক ভিসা পুনরায় চালু করেছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই সাত বছর পর চীন সফরে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চীনের তিয়ানজিনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলন হবে। সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ মধ্য এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা অংশ নেবেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২০ সালে ভারত-চীনের প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর দুই প্রতিবেশী দেশ উত্তেজনা কমাতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। এই সফরকে সেটি কাটিয়ে ওঠার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
সূত্র বলছে, এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেরও আয়োজন করা হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি