

মিনেসোটায় একজন আইসিই (ICE) এজেন্ট গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও অভিবাসন ইস্যুতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “হিসাব-নিকেশ ও প্রতিশোধের দিন আসছে।”
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ফেডারেল অভিবাসন এজেন্টদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, অথচ তার ভাষায় ‘আইসিইর দেশপ্রেমিকরা’ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হাজার হাজার অপরাধীকে সরিয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।
ফেডারেল অভিবাসন এজেন্টদের সংখ্যা বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মিনেসোটা রাজ্য ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করার পর এই মন্তব্য করেন ট্রাম্প। মামলাটি ঘিরে রাজ্য ও ফেডারেল প্রশাসনের মধ্যে বিরোধ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্প প্রশ্ন তোলেন,
“মিনেসোটার মানুষ কি সত্যিই এমন একটি সম্প্রদায়ে বাস করতে চায় যেখানে হাজার হাজার দোষী সাব্যস্ত খুনি, ধর্ষক, মাদক ব্যবসায়ী ও সহিংস অপরাধী বসবাস করছে?”
তার দাবি অনুযায়ী, এসব অপরাধী ‘স্লিপি জো বাইডেনের উন্মুক্ত সীমান্ত নীতির’ সুযোগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে।
ট্রাম্প তার পোস্টে আরও বলেন,
“হাজার হাজার অপরাধীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মিনেসোটার ডেমোক্র্যাটরা নৈরাজ্যবাদী এবং পেশাদার আন্দোলনকারীদের দ্বারা সৃষ্ট অস্থিরতা পছন্দ করে।”
তিনি অভিযোগ করেন, এসব অস্থিরতা একটি বড় আর্থিক দুর্নীতির বিষয় আড়াল করার জন্য উসকে দেওয়া হচ্ছে। পোস্টের শেষাংশে ট্রাম্প মিনেসোটার জনগণকে উদ্দেশ করে বলেন,
“ভয় পেও না, মিনেসোটার মহান জনগণ—হিসাব এবং প্রতিশোধের দিন আসছে!”
আইসিই এজেন্ট নিহত হওয়ার ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং ফেডারেল বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে, তিনি এই ইস্যুকে আইন-শৃঙ্খলা ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরছেন।
এদিকে, মিনেসোটার মামলাটি ঘিরে ফেডারেল সরকারের ক্ষমতা ও অঙ্গরাজ্যের অধিকার নিয়ে বিতর্কও আরও গভীর হচ্ছে।
মিনেসোটায় আইসিই এজেন্ট নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেওয়া ট্রাম্পের এই কড়া বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। অভিবাসন নীতি, নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা এবং ফেডারেল-রাজ্য দ্বন্দ্ব—সব মিলিয়ে বিষয়টি আগামী দিনে আরও রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতার দিকে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।