

সংযুক্ত আরব আমিরাত মঙ্গলবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছে, পারমাণবিক বিষয় নিয়ে চলমান উত্তেজনা কমাতে এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজে বের করতে দুই দেশকে সরাসরি আলোচনায় বসতে হবে। আরব আমিরাতের উপদেষ্টা আনওয়ার গারগাশ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো যুদ্ধের প্রয়োজন নেই।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র আগামী শুক্রবার তুরস্কে পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু করবে। আলোচনায় দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিক অংশ নেবেন। পাশাপাশি সৌদি আরব, মিশরসহ অন্যান্য অঞ্চলের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেবেন। ইউএমইর উপদেষ্টা গারগাশ বলেন, “অবশ্যই প্রয়োজন সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি করা, যাতে এ ধরনের সমস্যা ক্রমাগত না জন্মে।”
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, যদি চুক্তি না হয়, তাহলে বড় ধরনের “অশুভ ঘটনা” ঘটতে পারে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনের নিকটবর্তী এলাকায় নৌবাহিনীর বড় জাহাজ মোতায়েন করেছে। ট্রাম্প বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হলে তা ভালো, আর যদি না হয়, পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা দেশটির ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং জনমতকে আরও উত্তেজিত করে প্রতিবাদ উস্কে দিতে পারে। গত মাসের সরকারের বিরোধী সমাবেশে হিংসাত্মক দমন কার্যক্রমে ব্যাপক হতাহতের পর জনগণের রোষ ইতিমধ্যেই সীমা অতিক্রম করেছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরানে ইউরেনিয়ামের সমৃদ্ধি বন্ধ রাখা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আর অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারে ইরানের সমর্থন কমানো। ইরান দীর্ঘদিন ধরেই এগুলোকে নিজের সার্বভৌমত্বের জন্য গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করে না।
উল্লেখ্য, গত বছর ইসরায়েলের ১২ দিনের বোমাবর্ষণের পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এরপর থেকে তেহরান বলেছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধি কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ধ্বংস হওয়া দুটি স্থাপনার মেরামত শুরু হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স