

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর না বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাত দিয়ে জানা গেছে, তেহরান এখন কোনো সাময়িক সমাধান নয়, বরং সকল অমীমাংসিত ইস্যু নিয়ে একটি 'সামগ্রিক প্যাকেজ' বা পূর্ণাঙ্গ চুক্তির ভিত্তিতেই কেবল আলোচনায় আগ্রহী।
অতীতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সমস্ত আলোচনা মূলত দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কেন্দ্র করে আবর্তিত হতো। তবে এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইরান এখন টেবিলে একগুচ্ছ নতুন দাবি উত্থাপন করেছে। এই 'পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজের' মধ্যে রয়েছে—হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ, পারমাণবিক অধিকার, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, বিদেশে জব্দকৃত অর্থ ফেরত, ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি, যুদ্ধের ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের আঞ্চলিক সম্পর্ক।
ইরানি নীতিনির্ধারকদের মতে, তারা যুদ্ধ, তারপর সাময়িক শান্তি এবং পুনরায় যুদ্ধের এই 'দুষ্টচক্র' থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। তারা এমন একটি স্থায়ী শান্তি চাইছে যার পেছনে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা থাকবে।
গত দুই দফার আলোচনা থেকে শিক্ষ নিয়ে বর্তমানে ইরানিরা যে নীতি গ্রহণ করেছে, তাকে 'সতর্ক ও পরিমাপযোগ্য বাস্তববাদ' হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ, তারা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অতিমাত্রায় আশাবাদীও নয়, আবার পুরোপুরি নিরাশও নয়।
একদিকে যখন বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা এসেছে, ঠিক একই দিনে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক কঠোর বিবৃতিতে জানিয়েছে, যদি এই দফার আলোচনাও ব্যর্থ হয়, তবে তারা পরবর্তী পর্যায়ের যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
সব পক্ষই একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রত্যাশা করলেও, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় দেশই বলছে, যেকোনো মুহূর্তে তারা পুনরায় অস্ত্র তুলে নিতে প্রস্তুত।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা