তামিলনাড়ুতে ‘থালাপতি’ ঝড়: প্রথম নির্বাচনে নেমেই বাজিমাত অভিনেতা বিজয়ের

তামিলনাড়ুতে ‘থালাপতি’ ঝড়: প্রথম নির্বাচনে নেমেই বাজিমাত অভিনেতা বিজয়ের
প্রকাশিত

ভারতের তামিলনাড়ূ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক হয়ে এসেছে অভিনেতা 'থালাপতি' বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কালাঘাম (টিভিকে)। সর্বশেষ ট্রেন্ড অনুযায়ী, প্রথমবার ভোটের মাঠে লড়তে নেমেই ১২২টিরও বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে তারা। 

সোমবার (৪ মে) স্থানীয় সময় দুপুর সোয়া ২টা পর্যন্ত পাওয়া পরিসংখ্যান বলছে, তামিলনাড়ুর সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বিজয়ের দল। তাদের দাপটে অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে রাজ্যের দুই প্রধান শক্তি ডিএমকে ও এআইএডিএমকে।

তামিলনাড়ুতে মোট আসন ২৩৪। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ আসন।

তামিলনাড়ুর রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে নির্বাচনি লড়াইকে কার্যত ত্রিমুখী করে তুলেছে টিভিকে। মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের ডিএমকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। সেখানে টিভিকে ও এডিএমকের পিছনে ধুঁকছে তারা। 

তামিলনাড়ুর দ্বিমুখী রাজনীতিতে ধাক্কা বিজয়ের

তামিল রাজনীতি মূলত ডিএমকে ও এডিএমকে—এই দুই দ্রাবিড় দলেরই একচ্ছত্র দখলে থেকেছে। অন্য কোনো দলের ক্ষমতায় আসার নজির রাজ্যটিতে বিরল। দ্রাবিড় দলগুলোর আধিপত্য শুরু হওয়ার আগে ১৯৪৭ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত এই রাজ্য (তৎকালীন নাম মাদ্রাজ স্টেট) শাসন করেছিল কংগ্রেস।

এরপর মাত্র একবারই তামিলনাড়ুতে কংগ্রেসের শাসন ফিরেছিল। ১৯৮৮-৮৯ সালে জানকী রামচন্দ্রনের নেতৃত্বে (যারা আদতে এডিএমকে-র একটি অংশ) স্বল্প সময়ের জন্য কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে। তারপরই জারি হয় রাষ্ট্রপতি শাসন।

মাঝে অল্প কয়েক দিনের জন্য রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলেও গত পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় ধরে তামিলনাড়ুর রাজনীতি কার্যত দ্বিমুখী। দুই দলের বাইরে তৃতীয় কারও সেখানে বিশেষ অস্তিত্ব ছিল না।

ভক্ত মহলে 'থালাপতি' নামেই পরিচিত অভিনেতা জোসেফ বিজয়। নিজের রাজনৈতিক দল টিভিকে গঠনের মাধ্যমে ২০২৪ সালে রাজনীতিতে পা রাখেন তিনি। প্রথম দিন থেকেই বিজয় স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে একাই লড়বে তার দল।

ভোটের আগে এই নির্বাচনকে কেবল একটি ভোটযুদ্ধ নয়, বরং 'গণতান্ত্রিক লড়াই' বলে অভিহিত করেছিলেন এই অভিনেতা-রাজনীতিক। বিজয় সে সময় বলেছিলেন, 'কোনো ব্যক্তি বা কোনো কিছুর জন্যই টিভিকে নিজেদের রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে কখনও আপস করবে না।'

এর আগে জল্পনা ছড়িয়েছিল, জোট গঠনের জন্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে টিভিকে-র ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বিজেপি। যদিও সেই দাবি নাকচ করে দেন বিজয়। পরে গত ফেব্রুয়ারিতে দলের পক্ষ থেকেও বলে দেওয়া হয়, প্রবল চাপ থাকা সত্ত্বেও বিজেপির সঙ্গে কোনো জোটে তারা যাবে না।

সোমবার ভোটগণনার প্রাথমিক ট্রেন্ডেই টিভিকে-র ঐতিহাসিক অভিষেকের ইঙ্গিত মিলেছে। এই পরিস্থিতিতে দলের মুখপাত্র ফেলিক্স জেরাল্ড বলেন, রাজ্যে একক শক্তিতে সরকার গড়ার বিষয়ে তারা আত্মবিশ্বাসী।

ফেলিক্স বলেন, 'ডিএমকে এত দিন অন্ধকার ঘরে হাতড়ে বেড়াচ্ছিল। এবার তারা বাস্তবটা বুঝতে পারছে। রাজ্যে নিজেদের জোরেই সরকার গড়বে টিভিকে।'

কেরালায় গরিষ্ঠতার গণ্ডি পেরোল কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ

সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দক্ষিণের রাজ্য কেরালায় ইতিমধ্যেই গরিষ্ঠতার গণ্ডি পার করেছে কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ। 

রাজ্যে বাম জোট এলডিএফ-এর ভরাডুবির কারণ কী—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সানি জোসেফ বলেন, 'জনবিরোধী নীতি।' তবে দলের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী কে হচ্ছেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, 'সেটা আমরা পরে ঠিক করব।'

logo
The Metro TV | দ্য মেট্রো টিভি | The Metro TV Bangladesh | Bangla News Today | themetrotv.com |The Metro TV News
themetrotv.com