ইরানে বিক্ষোভকারীদের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি প্রস্তুত: ট্রাম্প

ইরানে বিক্ষোভকারীদের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি প্রস্তুত: ট্রাম্প
প্রকাশিত

বিগত তিন বছরের মধ্যে বড় ধরনের বিক্ষোভ চলছে ইরানে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় লোরেস্তান এবং চাহারমাহাল ও বখতিয়ারি প্রদেশে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে বিক্ষোভকারীদের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছে বলেছেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে পারে।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও সজাগ অবস্থায় আছি।’

এর আগে গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়, যা তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি বিমান অভিযানে যুক্ত হয়েছিল।

ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তা আলি লারিজানি রয়টার্সকে বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ গোটা অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলবে। উল্লেখ্য, ইরান লেবানন, ইরাক ও ইয়েমেনে বিভিন্ন গোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়ে থাকে।

এদিকে পশ্চিম ইরানের এক স্থানীয় কর্মকর্তা, যেখানে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে— রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, যেকোনো অস্থিরতা বা অবৈধ সমাবেশ ‘কঠোরভাবে এবং কোনো ছাড় না দিয়ে’ দমন করা হবে। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

তিন বছরে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই সপ্তাহের বিক্ষোভ ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় লোরেস্তান এবং চাহারমাহাল ও বখতিয়ারি প্রদেশে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

রাষ্ট্র-সংযুক্ত গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, বুধবার থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন ছিলেন বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য, যা বিপ্লবী গার্ডসের সঙ্গে যুক্ত—এমনটাই জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

গত কয়েক দশকে ইরান একাধিকবার বড় ধরনের অস্থিরতা সামাল দিয়েছে। তবে চলমান অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এবার কর্তৃপক্ষ তুলনামূলকভাবে বেশি চাপে রয়েছে।

২০২২ সালের শেষ দিকে হেফাজতে এক তরুণীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যে বিক্ষোভ হয়েছিল—যাতে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবে শত শত মানুষ নিহত হয়—তার পর তিন বছরে এটাই সবচেয়ে বড় আন্দোলন।

সাম্প্রতিক অস্থিরতার মধ্যে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তুলনামূলক সংযত অবস্থান নিয়েছেন। তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট নিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংলাপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যদিও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের হুমকির আগেই দেওয়া বক্তব্যে পেজেশকিয়ান সংকটের জন্য কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতাকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘আমরাই দায়ী… আমেরিকা বা অন্য কাউকে দায়ী করবেন না। জনগণ যেন আমাদের ওপর সন্তুষ্ট থাকে, সে জন্য আমাদের সঠিকভাবে সেবা দিতে হবে… এই সমস্যার সমাধান আমাদেরই খুঁজে বের করতে হবে।’

আরো পড়ুন

No stories found.
logo
The Metro TV | দ্য মেট্রো টিভি | The Metro TV Bangladesh | Bangla News Today | themetrotv.com |The Metro TV News
themetrotv.com