ইরানের প্রভাবশালী জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানিকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল।
আজ মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল ক্যাৎজ জানান, ‘গতকাল রাতে তাকে হত্যা করা হয়েছে’।
পাশাপাশি তেহরানের বাসিজ আধা-সামরিক বাহিনী প্রধানও নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেন ইসরায়েলি নেতা।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে ক্যাৎজের বরাত দিয়ে বলা হয়, ‘আমাকে (ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর) চিফ অব স্টাফ এই মাত্র জানালেন যে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান লারিজানি ও বাসিজ বাহিনীর প্রধান (গোলামরেজা) সোলেইমানিকে গতকাল রাতে হত্যা করা হয়েছে।’
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বিত হামলার আজ ১৮তম দিন।
তেহরান এখনো লারিজানির মৃত্যু নিশ্চিত করেনি।
ঘটনার সত্যতা মিললে এটাই হবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর সবচেয়ে বড় ও চাঞ্চল্যকর হত্যার ঘটনা।
ক্যাৎজ ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতাকে ‘হত্যা প্রকল্পের প্রধান’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ওই দুই নেতা এখন খামেনির সঙ্গে জাহান্নামের অতল গহ্বরে অবস্থান করছেন।
তাদের সঙ্গে আছেন তাদের অপর নিহত দোসররা।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে একটি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে নেতানিয়াহুকে ফোন হাতে দেখা যায়। নিচে ক্যাপশন, ‘প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের শাসকগোষ্ঠীর জ্যেষ্ঠ সদস্যদের হত্যার নির্দেশ দিচ্ছেন।’
এর আগে বাসিজ বাহিনীর প্রধান সোলেইমানিকে ‘তেহরানে নিখুঁত হামলা চালিয়ে’ হত্যার ঘোষণা দেয় ইসরায়েলি সেনা।
‘গতকাল (সোমবার) আইডিএফের কাছ থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী গোলামরেজা সোলেইমানিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং তাকে হত্যা করে। তিনি গত ছয় বছর ধরে বাসিজ ইউনিটকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন’, বিবৃতিতে বলা হয়।
ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর আওতাধীন বাসিজ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী ইরানের সাম্প্রতিক গণবিক্ষোভের সময় মূল নিপীড়নমূলক অভিযানগুলো চালিয়েছিল বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনা।
ইসরায়েলের সামরিক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির জানান, ‘গতকাল রাত থেকে এখন পর্যন্ত বেশ কিছু প্রতিরোধমূলক অর্জন পেয়েছি আমরা।’