

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেছেন, মাদুরো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন এবং তার আটক হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে আর কোনো সামরিক বা রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) রুবিওর সঙ্গে ফোনালাপের পর এ তথ্য নিশ্চিত করেন মার্কিন সিনেটর মাইক লি। তিনি বলেন, মাদুরো মার্কিন হেফাজতে থাকায় ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
খবরটি নিশ্চিত করেছে বিবিসি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিনেটর মাইক লি লেখেন, আমি জানতে আগ্রহী যে, যুদ্ধ ঘোষণা বা সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন ছাড়াই এই পদক্ষেপ সাংবিধানিকভাবে কীভাবে ন্যায্যতা পায়।
এর আগে শনিবার স্থানীয় সময় রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক মানুষ নিরাপত্তার আশঙ্কায় রাস্তায় বেরিয়ে আসে।
সিএনএনের সাংবাদিক ওসমারি হার্নান্দেজ জানান, একটি বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে তার বাসার জানালার কাঁচ কেঁপে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজধানী কারাকাসে বিকট শব্দের পাশাপাশি যুদ্ধবিমানের শব্দও শোনা গেছে। একই সময় আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শহরের দক্ষিণ অংশে অবস্থিত একটি বড় সামরিক ঘাঁটির আশপাশে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের আলোঝলমলে শহরের আকাশে একাধিক ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে এবং কিছু এলাকায় আলোর ঝলকানির পরপরই বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছে।
সিবিএস নিউজ জানায়, কারাকাসে বিস্ফোরণের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবগত ছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই ভেনেজুয়েলার সামরিক স্থাপনাসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে হামলার নির্দেশ দেন।
ভেনেজুয়েলা সরকার জানিয়েছে, রাজধানী কারাকাস ছাড়াও মিরান্ডা, আরাগুয়া ও লা গুয়াইরা রাজ্যে হামলা চালানো হয়েছে। এসব ঘটনার পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো।
এ ঘটনার কিছু সময় পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট আটক হয়েছেন বলে ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ‘লার্জ স্কেল স্ট্রাইক’ বা ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। অভিযানের সময় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে দেশটির বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।