হরমুজ প্রণালীতে মানবিক করিডর খুলতে জাতিসংঘের বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন

হরমুজ প্রণালীতে মানবিক করিডর খুলতে জাতিসংঘের বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন
প্রকাশিত

মানবিক চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে হরমুজ প্রণালীতে বিশেষভাবে পরিকল্পিত কারিগরি ব্যবস্থা তৈরি করতে উদ্যোগ নিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। সেই লক্ষ্যে এরই মধ্যে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মহাসচিবের মুখপাত্র।

গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) এক বিবৃতিতে মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত যেহেতু বাড়ছে এবং আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, তাই হরমুজ প্রণালীর মধ্যদিয়ে সামুদ্রিক বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটলে তা আগামী মাসগুলোতে মানবিক চাহিদা এবং কৃষি উৎপাদনের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি বলেন, যদিও মহাসচিব এই সংঘাতের একটি ব্যাপক ও টেকসই সমাধানে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এই পরিণতিগুলো প্রশমিত করার জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ নেয়া অপরিহার্য।

দুজারিক বলেন, হরমুজ প্রণালীর জন্য এই নতুন ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো সার বাণিজ্য সহজতর করা, যার মধ্যে সংশ্লিষ্ট কাঁচামালের চলাচলও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সাথে নিবিড় আলোচনার মাধ্যমে এটি কার্যকর করা হবে।

তার মতে, ‘উদ্যোগ সফল হলে এটি সংঘাতের কূটনৈতিক পদ্ধতির বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আস্থা তৈরি করবে এবং একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক নিষ্পত্তির দিকে একটি মূল্যবান পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে।’

মুখপাত্রের মতে, এই টাস্ক ফোর্সের নেতৃত্বে রয়েছেন জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল হোর্হে মোরেইরা দা সিলভা, যিনি ইউএন অফিস ফর প্রজেক্ট সার্ভিসেস-এর নির্বাহী পরিচালক।

এতে ইউএন কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন এবং ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অফ কমার্স-এর প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী অংশগ্রহণের জন্য অতিরিক্ত সংস্থাকেও আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে।

দুজারিক আরও বলেন, বৃহত্তর শান্তি স্থাপনের ম্যান্ডেটের অংশ হিসেবে মহাসচিবের ব্যক্তিগত দূত জঁ আর্নল্ট এই টাস্ক ফোর্সের সহায়তায় জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সাথে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার নেতৃত্ব দেবেন।

দা সিলভা বলেছেন, এই পরিকল্পনায় মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, এশিয়া এবং এর বাইরে মানবিক সংকট প্রতিরোধে সহায়তার জন্য সার এবং ‘সংশ্লিষ্ট কাঁচামাল’ বহনকারী জাহাজগুলোর ওপর মনোযোগ দেয়া হবে।

ইরান এই পরিকল্পনায় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। নিউইয়র্কে নিযুক্ত ইরানের জাতিসংঘ প্রতিনিধি আলী বাহরেনি শুক্রবার বলেছেন যে, তেহরান ‘মানবিক ত্রাণসামগ্রীর নিরাপদ চলাচল আরও ত্বরান্বিত করতে’ জাতিসংঘের অনুরোধে সম্মত হয়েছে।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বে সরবরাহ করা মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবহন হয়। সংঘাতের আগে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ছিল। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে প্রাণালীটি কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান। যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্যে এক ঐতিহাসিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে।

তেহরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়—এমন জাহাজের জন্য প্রণালী খোলা আছে। তবে তেহরান এই জলপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার কথা বলছে। সম্প্রতি বাংলাদেশসহ কয়েকটি ‘বন্ধুপ্রতীম দেশের’ জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে তেহরান।

সেই সঙ্গে ইরান সতর্ক করে বলেছে, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্র দেশগুলোর জাহাজগুলোর হামলা চালানো হবে। রয়টার্সের প্রতিবেদন মতে, হরমুজে এখন পর্যন্ত ছয়টি জাহাজ ইরানের হামলার শিকার হয়েছে।

আরো পড়ুন

No stories found.
logo
The Metro TV | দ্য মেট্রো টিভি | The Metro TV Bangladesh | Bangla News Today | themetrotv.com |The Metro TV News
themetrotv.com